সিয়াম সাধনার মাস হলো পবিত্র মাহে রমজান



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এটি সিয়াম সাধনার মাস। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আজ বুধবার থেকে সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা রাখা শুরু করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ পড়া এবং শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মাহে রমজানের আনুষ্ঠানিকতা। রোজাদাররা আজ সন্ধ্যায় ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে প্রথম রোজা পালন পর্ব শেষ করবেন। আর এভাবেই রমজানব্যাপী রোজা পালন করবেন।

মঙ্গলবার বাদ মাগরিব ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান এর সভাপতিত্বে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আজ বুধবার থেকে রমজান শুরু। আর আগামী ২৬ রমজান (৯ মে রবিবার রাতে) সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর উদযাপিত হবে। চাঁদ দেখা কমিটির রোজা শুরুর ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতেই মসজিদে মসজিদে এবং বাসায় তারাবির নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে সিয়াম সাধনাও শুরু করেন তারা।

মাহে রমজান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। তারা দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। এ ছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বাণী দিয়েছেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও মুসলমানদের সিয়াম সাধনা চলবে পুরো রমজান মাসব্যাপী। তবে গত বছরের মতো এবারও করোনার কারণে রোজার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ঘরোয়া পরিবেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে প্রতিটি মসজিদে সর্বাধিক ২০ জন মুসল্লি বেশি তারাবিসহ বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাই অধিকাংশ মুসল্লিকেই নিজ নিজ ঘরে নামাজ আদায় করতে হবে। তবে অনেকেই পারিবারিকভাবে বাসায় জামায়াতে তারাবি নামাজ আদায় করবেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে রমজান উপলক্ষে গত বছরের মতো এবারও ইফতার বাজারে রকমারি ইফতারির তেমন হিড়িক থাকবে না। অধিকাংশ মানুষই ঘরে বানানো ইফতার সামগ্রী দিয়ে রোজা শেষে ইফতার করবেন। আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করার স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইফতার মাহফিল বা সেহরি পার্টির আয়োজন করতে পারবেন না। রেস্তরাঁগুলো দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও ভেতরে বসে কেউ ইফতার কিংবা সেহরি খেতে পারবেন না। তবে অনলাইনে বা সরাসরি রেস্তরায় গিয়ে ইফতার কিংবা সেহরির জন্য খাবার কিনে বাসায় নিয়ে খেতে পারবেন।

রমজান মাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার বা সেহরিসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে পারবেন। তবে কোন অবস্থায়ই জনসমাগম করা যাবে না। পরিপূর্ণ লকডাউনের কারণে এবারের রোজায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যাবে না। বিশেষ করে রোজার দিনে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনরা পরস্পরের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণের তেমন সুযোগ পাবেন না।

শেয়ার করুন!