‘আলেম আলেম-এ বিবাদ’ যুদ্ধাবস্থা!



অরুন সরকার :

অরাজনৈতীক সংগটন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ নিয়ে দেশে চলছে সমালোচনা আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও ছেয়ে গেছে হেফাজতকে নিয়ে তোলকালাম কান্ড। একের পর এক নেতা গ্রেপ্তার আর বিরুদ্ধাচরনে আলেমদের মধ্যেও চলছে প্রতিযোগীতা। শেষ লড়াই তাদেরকে গৃহযুদ্ধের দিকে টেলে দিয়েছে।

ইতোমধ্যে হেফাজতের বিরুদ্ধে আরও ৬২ আলেম বিবৃতিও দিয়েছেন। সেই বিবৃতিতে হেফাজতের বর্তমান রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিদুষ্ট নেতৃত্ব বর্জনের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের বেড়াজালে পড়ে সরকারদল এখন কোনঠাসা। অনেকের মতে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করছে । তবে প্রথম থেকেই হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ দাবি করে আসছিল তাদের আন্দোলন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। তারা ইসলাম কায়েম করতে গিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তবে সকল আলেম যে খারাপ সেই কথাও বলছি না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়িয়েছে।

গণহারে গ্রেপ্তার, সুযোগ সন্ধানী আলেমদের বিবাদ সেই আন্দোলনের গতিপথ পাল্টিয়ে দিয়েছে। আলেমরা আজ বিভাজন। প্রতিহিংসা-জিঘাংসা ও উগ্রবাদী হয়েছে তাদের জীবণ সঙ্গি। কেউ আনন্দে আত্মহারা কেউ’বা আবার হাততালিতে ব্যস্থ্য আবার কারোস্থান নির্জন কারাবাস । এই অবস্থায় চলছে কতিপয় বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতাকর্মীর দৌড়ঝাঁপ। আজ তারা একে অপরকে ঘায়েল করতে নিজেরাই ফন্দি আটছে। এতে ওয়াজ মাহফিলের নামে বাণিজ্য করতে আরেকটি পক্ষ মাঠ দখলে মরিয়া। হায়রে কথিত আলেম সমাজ। এরকম করুন নিয়তি যে দেখতে হবে তা এই বাংলার মানুষ কোনদিন আশা করে নি। বর্তমানে তারা নিজের পায়ে নিজেরাই কোড়াল মারছে। এরছেয়ে আর তাদের প্রাপ্যইবা কি। তবে হ্যা ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে যে বা যারা কূলষিত ও বিকৃত করতে চায় তাদের প্রাপ্যটাও যে তাদের পাওনা। হিসেবের খাতায় গড়মিল থাকলে আলেম কেন জালিমরাও যে আজ না হয় কাল সেই আগুনে পুড়ে ছাই হতেই হবে এটা কোন সন্দেহ নেই।

সরকার যে লকডাউনের ডাক দিয়েছে এনিয়ে হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দরের লোকমূখে শুধু একটাই গুঞ্জণ লকডাউন কি হেফাজত নেতাদের আটকাতে না সত্যে সত্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য? এছাড়াও আপামোর জনমনে প্রশ্ন কোন স্বাধীন রাষ্ট্রে শান্তশিষ্ট প্রতিবাদ-আন্দোলন, বাক-স্বাধীনতা হরণ, ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেয়া বা কোন ব্যক্তির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কি দোষের? ভিন্নমতের বিরুদ্ধে চরম অসহিষ্ণু অবস্থান নিয়ে সরকার কি কথা বলার স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে, কোনটি? ইত্যাদি ইত্যাদি…? এতে বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে এর প্রচণ্ড প্রভাব পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সাংস্কৃতি, অর্থনীতিসহ আরও কতকিছু। সমাজে বাড়ছে অবক্ষয়। রসুনের কোয়া ভেঙ্গে চুরমার। সেই পতিত থেকে ইসলামি দলগুলো ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না সেটাও দেখার বিষয়।

দেশে সরকারদলের পাশাপাশি অন্যান্য দলের কর্তাব্যক্তিরাও বর্তমানে চরম বিপাকে। দলের মায়ায় অনেকে অনেক কিছু মুখ বুঝে সহ্য করলেও অনেকের অন্তরেই বিষ। যে বিষ ধীরে ধীরে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হয়। বিন্দুকণা জল থেকেই বৃহত্তের সৃষ্ঠি। এমন যেন না হয় কোন গোষ্ঠিকে নিরবংশ করতে গিয়ে নিজেদের যেন বংশ পরিচয় হারিয়ে যায়। বিষাক্ত সাপ শোবল দিলে সে নিশ্চয়ই মরণ কামড় দিবে। এটাও বাংলাদেশ সরকারকে মাথায় রাখতে হবে। ঠিক তেমনি আজ আলেম হয়ে যে বা যারা নিজ বুদ্ধিতে এদিক-ওদিক কথা বলছেন তাদেরকেও সজাগ থাকতে হবে। অন্যথায় গণেশ পাল্টে যেতে সেকেন্ড’র ব্যাপার।

শাসকের অনুসারি কিছু ভ্রষ্ট ইমাম নিয়ে ধর্মে বলা হয়েছে ,
শেষ জামানায়) জাতির সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক হবে শাসকরা। তাহলে সহজেই অনুমেয় এই শাসকদের সহযোগী, শাসকদের বন্ধু উলামাগণ কতই না পথভ্রষ্ট হবেন। হযরত হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “এই উম্মত তত সময় পর্যন্ত আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্ত হতে থাকবে, যত সময় পর্যন্ত এই উম্মতের ক্বারি ও আলেমরা শাসকবর্গের হাঁ এর সাথে হাঁ মিলানো থেকে বিরত থাকবে”। [কিতাবুর রাক্কায়িক, ইবনে মুবারক]

এদিকে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি থানা-ফাঁড়িতে বসানো হয়েছে লাইট মেশিনগান পোস্ট। এ নিয়েও জনমনে জল্পনার শেষ নেই। স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিস্থিতি ঘোলাটে!

আইনের অর্তাকর্তারাই আজ যুদ্ধের সম্মূখিন। কতিপয় উগ্রপন্থি হাফেজদের ভয়ে থানা পাহাড়ায় পুলিশ। তাও যুদ্ধাবস্থায়। সরকারের জন্য এরমতো লজ্জার আর কি হতে পারে। তবে এ থেকে উত্তোরনের পথ সরকারকেই খুজে বের করতে হবে। নতুবা মাদ্রাসা পড়ুয়া অনেক যুবক-তরুণরা অচিরেই বিপদগামী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পাদকীয় কলাম।

শেয়ার করুন!