সখীপুরে বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণি



ছবি-সিএনবাংলাদেশ।
আমিনুল ইসলাম,সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে চাষিরা আনন্দে মাতোয়ারা। ন্যায্যমূল্য এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকায় কৃষাণ-কৃষাণিরা ধান ঘরে তুলতে দাবদাহ গরমের মধ্যেও দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। চলতি রমজান মাসেও ধানের কাজে নেই তাদের ক্লান্তির গ্লানি। উপজেলার চাষিরা রয়েছেন কিছুটা বৈশাখের ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কায়। সবমিলে ধান কাটা, বাঁধা, বহন, ঝাড়াই-মাড়াই, উড়ানো এবং গোলায় উঠাতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা দেখলেই কৃষক তাড়াতাড়ি সোনার এই ধান হই হুল্লর করে ঘরে তুলতে যেন ব্যাকুল। দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের ফসল বোর ধান সংরক্ষন করে ঘরে তোলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষাণ কৃষাণিরা নিজেদের ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে কাজ করছেন । অনেকেই আবার শ্রমিক নিয়ে নিজ নিজ জমির বোরো ধান কাটছেন। কেউ কেউ আবার মেশিনের মাধ্যমে মারাই করে খর থেকে ধান ছাড়াচ্ছেন, কোথাও কোথাও কৃষাণিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধান সিদ্ধ করছেন। কোথাও আবার দেখা যায় বাড়ীর উঠানে এবং বাড়ির আঙ্গিনায় অস্থায়ী উঠান করে ধান রোদ্রে শুকাচ্ছেন। এতো পরিশ্রমের পরেও আনন্দ উৎসাহের মধ্যদিয়েই বোরো ধান ঘরে তুলছে কৃষক কৃষাণিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, মাঠে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বোরো ক্ষেত সোনালী রঙের পাকা ধানে ঢেকে আছে। যেদিকে চোখ যায় মাঠে শুধু ধানক্ষেত চোখে পড়ে । করোনা কালিন সময়েও বসে নেই কেউ। সবাই ধান কাটায় ব্যস্ত। কিছু কিছু জমিতে নেক ব্লাস্ট (গলা পচা) রোগে আক্রমণ করলেও খুব বেশি ক্ষতি হয়নি ।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২৫টি ব্লকে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে ধানের সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৬ হাজার ৪৪০ মেট্রিকটন । বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রোগবালাই ও পোকামাকড় হতে ফসল রক্ষায় মাঠে মাঠে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস ।

উপজেলার কালিয়ান পাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক বলেন, তাইবুর রহমান জানান, এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি বছর যে যতটুকু জমিতে বোরো ধান রোপন করেছে মহান সৃষ্টিকর্তা তার আশা পূরণ করেছেন। তবে ধান ভালো হলেও ঘরে তুলতে কষ্টের শেষ নেই। বৈশাখের তাপপ্রবাহ, তারপরও রমজানের রোযা। সবমিলিয়ে ধান ঘরে তুলতে যেন নাকাল অবস্থা।

ধান কাটা শ্রমিক চান মিয়া, হারুন, মোজাম্মেল সহ আরো কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়,৫শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা রোজে কাজ করছেন ।

পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের মিল মালিক নান্নু খান বলেন, নতুন চিকনধান এখন কেনা হচ্ছে প্রতিমণ এক হাজার টাকার উপরে। আর মোটা জাতের ধানগুলো মণপ্রতি নয়’শ টাকার মধ্যে। তবে ভরা মৌসুমে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চরম খুশি। তিনি আরও বলেন, এ বছর বোরো ধানে যথেষ্ট লাভের অংশ দেখবে কৃষকরা। ধানের ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা এখন আনন্দে উৎফুল্ল।

উপজেলার কীর্তনখোলা ব্লকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক খান বলেন, তার ব্লকের আয়াত্তে প্রায় ৫০ ভাগ বোরো ধান চাষিরা ধান বাড়িতে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা ধান ঘরে তুলতে। তবে আবহাওয়া অনুকূল পরিবেশ থাকলে চলতি সপ্তাহের মধ্যে চাষিরা তাদের সকল ধান বাড়িতে তুলতে পারবেন বলে আ

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.নূরুল ইসলাম বলেন, সখীপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে ।দামো ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবে বলে আমি আশা করি।

শেয়ার করুন!