ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা অবুঝ শিশুদের উপর হামলা কেন ?



ছবি-সংগৃহীত।
অরুন সরকার :

কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা অবুঝ শিশুদের উপর হামলা চালানো কোন সভ্য জাতির কাম্য নয়। প্রত্যেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন নিস্পাপ ঠিক তেমনি প্রত্যেক শিশুও নিস্পাপ। এটা নিয়ে কোন সভ্য জাতি কখনও প্রতিহিংসা বা রাজনীতি করতে পারে না। হোক সে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী আর হোক সে মুসলিম। ইসরায়েলি ইস্যুতে এর নারকীয়তা ফুটে উটেছে। কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা। সেই নারী ও শিশুদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উটছে। ইতোমধ্যে তাদের এই আর্তনাদ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে।

এছাড়াও দেখা গেছে, অবলা নারী জাতির উপরেও হামলে পড়ছে ইসরায়েলি ঘাতক হায়নারা। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আজ তাদের এ কর্মকান্ড গোঠা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ হায়নাগুলোর আচরণ এই তথ্যপ্রযুক্তি যুগে দেখতে হবে এমনটা কেউ আশা করেনি। উচ্চ অট্টালিকা পাহাড়সম আর্ন্তজাতিক দেশগুলো বসে বসে আঙ্গুল চুষছে। অথচ তারাই আবার বিশ্বের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। হায়রে অভাগা আর্ন্তজাতিক গোষ্ঠি। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের সাম্প্রতিকতম এই সংঘাতে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৮৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৫৫ জনই শিশু। এরমতো লজ্জার আর কি হতে পারে। তার উপরে আবার মানুষ হয়ে নির্বিচারে মানুষকে খুন করছে তাও অস্ত্র আর গুলাবারুদ দিয়ে। সময় থাকতে যদি এর প্রতিকার করা না হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ন্যায় বিচার চরম লঙ্গন হবে।

এদিকে দেখা যায় ইসরাইল ঘাতকরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে গণমাধ্যমকর্মীদের অফিস কার্যালয় গুড়িয়ে দিয়েছে। শক্তিশালী গণমাধ্যম স্তম্বকে গুড়িয়ে দিয়ে তারা আরও বেশি হিনমান্যতার পরিচয় দিয়েছে। আল-জাজিরা, এপির মতো কার্যালয় নিশ্চিহ্ন করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এতে তারা অধিকারের যায়গাটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। এতে করে ইসরাইল নিজেই ছোট হয়ে গেল।

আমরা জানি একটি রাষ্ট্রে খাদ্য, বস্ত্র-বাসস্থান, শিক্ষা, অর্থনীতি ও নৈতীকতা যেমন অতীব জরুরী ঠিক তেমনি মানুষের নিরাপত্তা সবার উপরে। ঘুমন্ত মানুষকে হত্যা পশুসূলভ আচরণ মোটেই কাম্য নয়। মসজিদ-মন্দিরে হামলা কোন মানুষই মানতে নারাজ। একইভাবে অবলা শিশু-নারীদের হত্যা করাটাও কেউ মানতে পারেন না। আমরা সকলেই কোন না কোন মা-বাবার সন্তান। তাই বলে নিস্পাপ মানুষকে হত্যা করা কোন ধর্মই সার্পোট করে না। রাষ্ট্রের স্বার্থে জনগণ আর সূনামের স্বার্থে রাষ্ট্র এটাই প্রকৃতির লীলা। তাই বলে মানুষ খুন করে নয় বরং স্নেহের জালে আবদ্ধ রেখে। একটি দেশের সূপরিকল্পিত সূনাম বয়ে আনতে পারে শুধুমাত্র সৎ-ও নিষ্টা কার্যকলাপে। যারা যাবার তারা চলে যাবে কিন্তু থেকে যাবে তাদের কীর্তিকলাপ। যেমনটা আজ ইসরায়েলি ঘাতকরা শুরু করেছে। এর শেষ কোথায় হবে কারো হয়তো জানা নেই?

লেখক ও সাংবাদিক।

শেয়ার করুন!