গণমাধ্যমের বিকাশ রাষ্ট্রেরই প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী



ফাইল ছবি।
বিশেষ প্রতিনিধি :

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দুই-একটি ছিটেফোঁটা ঘটনা সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের আন্তরিকতার সম্পর্ক বিনষ্ট করতে পারে না। বর্তমান সরকার সাংবাদিকবান্ধব সরকার। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হচ্ছে গণমাধ্যম। সুতরাং গণমাধ্যমের বিকাশ রাষ্ট্রেরই প্রয়োজন।

বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংগঠনটির নবীন-প্রবীণ সদস্যদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ১২ বছর আগে শোনা যেত- ‘মা, একমুঠো ভাত দেন’। এখন আর তা নেই। এখন আর আকাশ থেকে কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, এখন আর ছেঁড়া কাপড় পরা মানুষ দেখা যায় না, খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না। এটিই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রিপোর্টার্স ইউনিটির সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আগে বাংলাদেশে কোন প্রাইভেট চ্যানেল ছিল না। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রাইভেট চ্যানেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ ৩৪টি প্রাইভেট চ্যানেল সম্প্রচারে, আরও ১১টি সম্প্রচারের অপেক্ষায়। শত শত অনলাইন এখন পরিচালিত হচ্ছে, পত্রিকার সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকে বেড়েছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের এই বিস্তৃতির ফলে সাংবাদিকদের পরিধিও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে কিছু ভূঁইফোর অনলাইন এবং কিছু পত্রিকার ডিক্লারেশন আছে যেগুলো সাংবাদিকতা করে না, সেখানে অনেকে সাংবাদিক হিসেবে কার্ড নিয়ে সাংবাদিকতা করেন না। তাদের কারণে মূলধারার সাংবাদিকদের বদনাম হয়। এখানে একটি শৃঙ্খলা আনা দরকার।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যে শুরু থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ যেভাবে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটি একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে সব সদস্যের প্রয়োজনে তারা পাশে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এমন একটি জায়গায় এসেছে যে, সব রিপোর্টারদের ভরসার জায়গা হয়েছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকগুলো ধাপ আছে, অনেকগুলো পদ আছে। কিন্তু একজন রিপোর্টার যে কাজগুলো করেন সেটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্টারের রিপোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের হাতে একটি ক্ষমতা আছে, তাদের কলমের ক্ষমতা যে কত বড় সটা হয়ত তিনি নিজেও অনুধাবন করতে পারেন না। যার কাছে ক্ষমতা নেই তাকে ক্ষমতাবান করতে পারেন তারা।

সরকার সাংবাদিকবান্ধব উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাংবাদিকবান্ধব সরকার। আমাদের সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে অনেক কাজ করেছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে। করোনাকালে সাংবাদিকদের যে সহায়তা করা হচ্ছে সেটি আশপাশের কোন দেশে করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে করোনাকালে এককালীন সহায়তা দেয়া হয়েছে। তথ্য কমিশন তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য গঠিত হয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির জায়গাটিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাদ্দ দিয়েছেন। জায়গাটি নিয়ে জটিলতা ছিল, সেটি নিরসন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাধান করেছেন।

ডিআরইউ’র সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যত ভুল-ত্রুটি সামনে তুলে ধরা হবে, তত বেশি রাষ্ট্র উপকৃত হবে। সংশোধন হয়ে জনকল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবে। এ সময় কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের মাঝে কোনভাবেই দূরত্ব সৃষ্টি করবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমীন, যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, আওয়ামী লীগ নেতা সুজিদ রায় নন্দী, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানীসহ সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রঙ্গিন বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করা হয়। রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয় চত্ব¡রে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। বর্ণাঢ্য শোভযাত্রায় ঢোল, ঝুমুর নিয়ে শতাধিক সদস্য ডিআরইউ লোগা সংবলিত টি-শার্ট পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনায় বাংলাদেশের অভ্যুদয় ॥ এর আগে সকালে রাজধানীর শাহবাগে বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্রতম উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সম্মিলিত প্রতীকী শান্তি শোভযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনার জন্যই বাংলাদেশের অভ্যুদয়। বিশ্ব যেন অচিরেই করোনামুক্ত হয় সেজন্য সবাইকে এই পবিত্র দিনে প্রার্থনার আহ্বান জানান তিনি।

বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ বড়ুয়ার পরিচালনায় আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বিশেষ অতিথি এবং মহাথেরো আশিনো দীনরক্ষিত আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন।

পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সকল ধর্মের মানুষের মিলিত রক্ত¯্র্েরাতের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। আর স্বাধীনতার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তেই পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি এবং সে কারণেই আমাদের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা বর্ণিত রয়েছে।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদ, বুদ্ধ পূর্ণিমা, দুর্গাপূজা, বড়দিনসহ সকল ধর্মীয় উৎসবই এ দেশের সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে সার্বজনীন রূপ লাভ করে। এই সার্বজনীন চেতনা, যা জননেত্রী শেখ হাসিনা চিরজাগরূক রাখতে চান, তার ওপর কালিমা লেপন বা তাকে নস্যাত করার সকল অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন!