খালেদা জিয়াকে এক মাস পর কেবিনে স্থানান্তর



ফাইল ছবি।
সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে এক মাস পর কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টায় তাকে কেবিনে নেওয়া হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিসিইউতে দীর্ঘ দিন থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে খালেদা জিয়ার একবার ইনফেকশন হয়েছিল। তাই চিকিৎসকরা তাকে কেবিনে নিয়েছেন। কেবিনেই সিসিইউর সুবিধা রেখে তার পোস্ট কোভিড জটিলতাগুলোর চিকিৎসা চলছে।

গত ১০ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের অধীনে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাদের পরামর্শে ২৭ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। গত ৩ মে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন। পোস্ট কোভিড জটিলতায় খালেদা জিয়া আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিকসের পাশাপাশি হৃদযন্ত্র ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছে।

মেডিকেল টিমের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মেডিকেল বোর্ড তাকে কেবিনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবিনে তার চিকিৎসা চলবে। এখানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তার শারীরিক অবস্থা দেখে পরবর্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে- কবে, কখন তাকে গুলশানের বাসা ফিরোজায় নেয়া যাবে।

মেডিকেল বোর্ডের এই চিকিৎসক আরো জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। বেশ কয়েক দিন আগেই তার সব এন্টিবায়োটিক ওষুধ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হার্টের অবস্থা বেশ ভালো, ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে, ফুসফুসে এখন আর পানি জমে না। আথ্রাইটিসসহ আগের যেসব সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে এখন চিকিৎসা চলবে। খালেদা জিয়ার যেসব সমস্যা রয়েছে তা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। এজন্য লংটাইম চিকিৎসা প্রয়োজন। এখন তাকে বিদেশে বা কোনো হায়ার সেন্টারে নিয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা করাতে পারলে তিনি দ্রুত এবং অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠবেন।

তিনি জানান, খালেদা জিয়া এখন স্বাভাবিক কথা বলতে পারেন। হাঁটতেও পারেন। তবে সঙ্গে একজন থাকেন।

শেয়ার করুন!