কিশোরগঞ্জ পৃথক ঘটনায় দুইজন খুন, আহত ১৩



ফাইল ছবি।
মোঃ ফাইজুল হক গোলাপ, কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর ও তাড়াইল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজন খুন ও ১৩ জন আহত হয়েছে।

জেলার বাজিতপুরে সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মোঃ মুজিবুর রহমান (৬৫) নামে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ আরো অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৫ জনকে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন, চাঁন মিয়া (৫৪), তারা মিয়া (৫২), হোসনে আরা (৫৫), লোকমান মিয়া (৪০) ও আবু তাহের মেম্বার (৫৮)। সোমবার দুপুরে উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়নের বাহেরনগর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। নিহত মুজিবুর রহমান বাহেরনগর গ্রামের মৃত শেখ আব্দুল মালেকের পুত্র। তিনি স্থানীয় বাহেরনগর জামে মসজিদের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দিন খাঁন শাফির সমর্থক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাজিতপুরের দিলালপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া নভেল ও সাবেক চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দিন খাঁন শাফি আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার জন্য আগাম প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়ভাবে তাদের সমর্থকরা দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে বাহেরনগর গ্রামে রবিবার দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে সোমবার দুপুরে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছোঁড়া বল্লমের আঘাতে মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া নিহত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা খাতুন (৫৫), চাঁন মিয়া, তারা মিয়া, হোসনে আরা, লোকমান মিয়া ও আবু তাহের মেম্বারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অপরদিকে জেলার তাড়াইলে জলমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোঃ শফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো অন্তত তিনজন আহত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের ডুবাইল বিলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। নিহত শফিকুল ইসলাম দিগদাইড় গ্রামের মতি মিয়ার পুত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুবাইল বিল জলমহালের আধিপত্য নিয়ে দিগদাইড় পূর্বপাড়ার সাদেক ভেন্ডারের লোকজনের সাথে গ্রামবাসীর বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে ধরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছোঁড়া বল্লমের আঘাতে সাদেক ভেন্ডারের পক্ষের শফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়। মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আহতদের মধ্যে তিনজনকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বাজিতপুর ও তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ পৃথক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

শেয়ার করুন!