আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে জৈন্তাপুর থানায় ভূয়া রিকল!



ফাইল ছবি।
স্টাফ রির্পোটার, সিলেট :

মাননীয়, চীফজুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিলেট-এ জামিন আবেদনকে ভূয়া জামিন নামা (রিকল) বানিয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় জমা দিল একদল আসামি প্রতারকচক্র। এনিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, জৈন্তাপুর মডেল থানার আওতাধীন ৪ নং-দরবস্ত ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড’র ছাতারখাই গ্রামের মৃত হাজির আলীর মেয়ে আলতুন নেছা (৪ জুন) ওই থানায় একটি মামলা রুজু করান। যার মামলা নং-জৈন্তাপুর জি আর ৯৪/২১ইং-। উক্ত মামলায় একই গ্রামের মৃত-ফাতির আলীর ছেলে ফারুক আহমদ (৫০)’কে প্রধান আসামী করে আরও আটজনকে আসামী করা হয়। আর সেই মামলার জামিন নিতে ৮জন আসামীর পক্ষে আদালতে এ্যাডভোকেট মোঃ তাজউদ্দিন (মাখন) একটি জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত আজও পর্যন্ত জামিন শুনানীর দিন কার্যদিবস ধার্য করেন নি। তবে রহস্যজনক হলেও সত্য যে, আসামীপক্ষ সেই আবেদনটি জৈন্তাপুর মডেল থানায় পৌছে দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানায় তারা জামিন লাভ করেছে। দু’এক দিনের মধ্যে তারা রিকল জমা দিবে। এরপর থেকে আসামীরা স্থানীয় এলাকায় বীরদর্পে চলাফেরা করছে। এমনকি তারা পুলিশি গ্রেপ্তার এড়িয়ে যাচ্ছে। আসামীরা স্থানীয় এলাকার হাট-বাজারে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে বলাবলি করছে তারা আদালত থেকে জামিনলাভ করেছে। একপর্যায় বাদীনির সন্দেহ হলে থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপর বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। আসামীরা আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করে গুজব ছড়িয়ে দেয় জামিনলাভের বিষয়টি। শুধু তাইনয় তাদের পক্ষের এ্যাডভোকেটকে দিয়েও কৌশল কাটিয়ে তদন্তকারী এসআই পার্থ’র নিকঠও ফোনযোগে আলাপ করিয়ে দেয় সেই প্রতারক চক্র। জামিনের কাগজ দু’একদিনের মধ্যে পাটিয়ে দিবেন বলেও ফোনযোগে এসআইকে জানান সেই এ্যাডভোকেট। এর সত্যতা স্বীকার করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার এসআই পার্থ। তিনি মুঠোফোনে প্রতিবেদক’কে বলেন, এ্যাডভোকেট বলেছিলেন রিকল পাটাবেন কিন্তু আজও রিকল প্রেরণ করেন নি। পরে তিনি নিশ্চিত হন জামিন না নিয়েই আসামীরা এরকম কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে এ্যাডভোকেট মোঃ তাজউদ্দিন (মাখন)’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জামিনের আবেদন করা হয়েছে, শুনানীর তারিখ এখনও পড়েনি। এসময় তিনি বলেন, এসআই পার্থ’র সাথে তার কথা হয়েছে । তিনি পাশ কাটিয়ে বলেন কোর্ট ইন্সপেক্টর ইচ্ছা করলে থানায় বলে দিতে পারেন তাদের হয়রানী না করতে। যেহেতু আদালতে জামিনের শুনানী সামনে রয়েছে। এসময় তিনি নিশ্চিত করেছেন আসামীরা আদালত থেকে কোন জামিন নেয় নি।

এ ব্যাপারে জানতে বাদী পক্ষের এ্যাডভোকেট মাহফুজ’র সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, কোন আসামী এখনও পর্যন্ত আদালত থেকে জামিন নেয়নি। আমার সাথে বাদীনি যোগাযোগ করলে তাকে থানায় গিয়ে কাগজটি সংগ্রহের কথা বলি। এরপর জানতে পারি আসামীরা জামিন আবেদনের কাগজটি থানায় দাখিল করে বলাবলি করছে তারা জামিন লাভ করেছে। আমি শুনানীর সময় আদালতকে বিষয়টি অবহিত করব।

শেয়ার করুন!