হবিগঞ্জে নিষেধের পরও টমটম চালকদের লাগাম টানা যাচ্ছে না!



ছবি-সিএনবাংলাদেশ।
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ :

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় বারবার নিষেধ করার পরও টমটম চালকদের লাগাম টানা যাচ্ছে না। একদিকে যেমন অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে অপরদিকে অতিরিক্ত ভাড়াও নিচ্ছে তারা। রীতিমতো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। হবিগঞ্জ জেলা সদরের অন্য পৌর এলাকাগুলোতে করোনাকালীন সময়ে উঠানামার ক্ষেত্রে ভাড়া ৫ টাকা হলেও ব্যতিক্রম কেবল হবিগঞ্জ পৌর এলাকাতেই। এখানে উঠানামা করতেও দিতে হচ্ছে ১০ টাকা করে। এতে যাত্রীরা অনিহা প্রকাশ করলে টমটম চালকদের হাতে নাজেহাল হতে হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও জনদাবির বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। যদিও গতকাল বুধবার দিনভর মাইকিং করে জানানো হয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে টমটম। যাত্রী নিবে চালকসহ ৪ জন। এরকম নির্দেশনা দীর্ঘদিন ধরে দেয়া হলেও কোনো টমটম চালকরা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে তাদের মতোই গাড়ি চালাচ্ছে। গতকাল সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়, একদিকে মাইকিং করা হচ্ছে অন্যদিকে টমটমগুলোতে ৪ জনের অধিক যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, টমটমগুলো ব্যাটারী চালিত হওয়ায় এগুলো অনুমোদন দেয় পৌরসভা। এক্ষেত্রে ভাড়াও নির্ধারণ তাদেরই করার কথা। কিন্তু বিভিন্ন সময় মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নাম দিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে একটি সিন্ডিকেট। সম্প্রতি করোনার কারণে গণপরিবহণে ৬০ শতাংশ ভাড়া ও হাফ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। সরকারি নির্দেশনার সাথে সমন্বয় করতে জেলা প্রশাসন টমটমের ভাড়াও ১০ টাকা করে।

যাত্রীদের অভিযোগ, জেলা সদরের বিভিন্ন পৌর এলাকার ভেতরে করোনাকালীন উঠানামা ৫ টাকা রাখা হলেও হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়ার নামে কৌশলে নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা টমটম শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক অপু আহমেদ রওশন জানান, হবিগঞ্জে টমটম মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নামে কোনো সংগঠন নেই। একই চক্র ঘুরে ফিরে ভিন্ননামে কমিটি করে ফায়দা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিসহ অভিযোগ দায়ের করা আছে। তিনি পৌর এলাকার ভেতরে জনদাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আগের ৫ টাকা ভাড়া বহালের দাবি জানান।

শেয়ার করুন!