জৈন্তাপুরে অসামাজিকতার অভিযোগ এনে ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের



ফাইল ছবি।
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি :

সিলেটের জৈন্তাপুরে উপজেলার প্রভাবশালী কর্তৃক জমি আত্মসাৎতের জের ধরে পিতৃহীন পরিবারকে অসামাজিকতার অভিযোগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে মিথ্যা সংবাদ উপস্থাপন করায় আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী কর্তৃক জমি আত্মসাৎ করায় জমি উদ্ধারের জন্য জৈন্তাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করায় পর দিন অভিযোগকারী পিতৃহীন অসহায় মহিলার বিরুদ্ধে অসামাজিকতার অভিযোগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে মিথ্যা সংবাদ উপস্থাপন করায় প্রতিপক্ষ।
অপরদিকে ২০২০সনে সড়ক দূর্ঘটনায় অভিযোগকারী পিতার মৃত্যু হয়। পিতার রেখে জমিজমা আত্মসাৎ করার জন্য আপন চাচা ও চাচাতে ভাই অন্যান্য আসামীদের সহিত দলবদ্ধ হয়ে সামাজিক ভাবে হেও প্রতিপন্ন করতে অশ্লীল কথাবার্তা ও অসামাজিকতার অভিযোগ এনে গত ২৫মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও প্রকাশ করে। যাহা আমি অবিবাহিত মেয়ের ইজ্জত হানি ঘটান। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে চাচা ও চাচাত ভাই কর্তৃক অপপ্রচারে নিজেকে প্রাণনাশ করার সামিল করেন। লাইভ ভিডিও প্রচারের পর হতে এলাকায় চলাফেরা অসম্ভব হয়ে উঠেছে পিতৃহীন পরিবারটির।
পরে এঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই জুন ৬নং মাননীয় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সিলেটে, দন্ড বিধি আইনের ৫০০/৫০১ ধারা মোতাবেক উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের পূর্বগর্দনা গ্রামের মৃত আব্বাস মিয়ার ছেলে ময়না মিয়া (৫০), মৃত বতনা মিয়ার ছেলে রাছেল আহমদ (২৭), মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে ইউপি সদস্য আব্দুর রকিব (৪০), মৃত সমসুল ইসলামের ছেলে রিয়াজ আহমদ (২৫), মৃত ইউছুর আলীর ছেলে আছদ্দর আলী (৬০), নিজপাট উজানীনগর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে শোয়েব আহমদ (৩৫) নিজপাট মাহুতহাটি গ্রামের আজাদ ড্রাইভারের ছেলে হাসান মোঃ বদরুল (৩২) ড্রাইভারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলার পূর্ব গর্দনা গ্রামের মৃত নূরুল হক ডুমাই মিয়ার রেখে যাওয়া জৈন্তাপুর উপজেলার রুহিলাকান্দি হাওর মৌজার ১২৬নং জেএল, ৪৩৪নং দাগের ১০বিঘা জমির মালিক হন। তার মৃত্যুর পর বাদীর চাচা ও চাচাতো ভাই কর্তৃক জমি আত্মসাৎ করে নিয়ে যায়। বাদী জমিতে নিজে খরচে ফলানো ধান গুলো জোর পূর্বক কেটে নিয়ে যায়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিরত রেখে কয়েকজন ইউটিউভারদের খবর দিয়ে নিয়ে মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে লাইভ সম্প্রসারের মাধ্যমে আমার পরিবার ও আমার ইজ্জতহানি ঘটান। উল্লেখিত ইউটিউভারগন আমাদের কোন বক্তব্য কিংবা জমির বিষয় তাদের প্রচারে উল্লেখ করেননি।

অপরদিকে বাদী জৈন্তাপুর মডেল থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দাখিল করে আইনি সহায়তা না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বাদীর লিখিত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মাননীয় আদালত জৈন্তাপুর মডেল থানাকে তদন্তপূর্বক দ্রুত মামলা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম দস্তগীর আহমদ প্রতিবেদককে বলেন, আদলাত কর্তৃক একটি অভিযোগ আমার দপ্তরে এসেছে। তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করেছি। বাদী ইতিপূর্বে থানায় একাধিক অভিযোগ করে যাহা আমলযোগ্য ছিল না।

শেয়ার করুন!