চা শ্রমিকের মজুরী হারের খসড়া সুপারিশ বাতিলে সংবাদ সম্মেলন



ছবি-সিএনবাংলাদেশ।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিম্নতম মজুরী বোর্ড কর্তৃক চা বাগান শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী হারের খসড়া সুপারিশ ২০২১ বাতিল ও শ্রমিক বান্ধব গেজেট প্রকাশের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালী পরিষদ।

গতকাল শনিবার দুপুরে শহরে মৌলভীবাজার সড়কের বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রিয় কার্যালয় লেবার হাউজে বালিশিরা ভ্যালী পরিষদ এর সভাপতি বিজয় হাজরার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজয় হাজরা।
তিনি বলেন, গত ১৩ জুন রোববার নিম্নতম মজুরী বোর্ড কর্তৃক টি গার্ডেন শিল্প সেক্টর নিযুক্ত সকল শ্রেণীর শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরা হারের খসড়া সুপারিশ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২২ ১০-২০১৯খ্রি: নিম্নতম মঞ্জুরী বোর্ড গঠন করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ২ বছর পর নিম্নতম মজুরী বোর্ড চা-শিল্প সেক্টরে নিযুক্ত সকল শ্রেণীর শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী হারের খসড়া সুপারিশ, চা শ্রমিক বিরোধী খসড়া প্রকাশ হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, চা-শ্রমিকরা জন্ম থেকে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভক্ত ও উনার উত্তরস‚রী হিসেবে সবসময় শেখ হাসিনা সরকার অর্থাৎ নৌকা মার্কার সরকার কে ভোট দিয়ে আসছে। অথচ নৌকা মার্কার সরকারের আমলে যে নিম্নতম মজুরী হারের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে তা অতি দুঃখ জনক ও বেদনাদায়ক। আমরা মনে করি শেখ হাসিনার সরকারের ভাবম‚র্তি নষ্ট করার জন্য এই এক গভীর ষড়যন্ত্র। এবং মালিক পক্ষের ব্যক্তিগত এই স্বার্থ কে হাসিল করার জন্য ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে এই রকম একতরফা গেজেট তৈরীর পায়তারা চলছে। শ্রমিকদের মজুির ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা লিপিবন্ধের ক্ষেত্রে মানসম্মত নয়, তাই আমরা খসড়া গেজেট প্রত্যাখ্যান করছি। এবং চা শিল্প ও চা শ্রমিক বান্ধব গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে চারটি দাবী তুলা হয়।

দাবীগুলো হলো-

১. অবিলম্বে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী ৩০০ (তিনশত) টাকা করা, (২) খসড়া গেজেট এর ধারা ৭ (সাত) বাতিল করে দুই বছর অন্তর অন্তর বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর মজুরী ছাড়াও উৎপাদনশীলতাসহ অন্যান্য আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, (৩) তফসীল ‘খ’ এর ক্রমিক নং-৩ (শিক্ষানবিস) বাতিল করা, (৪) চা শ্রমিকদের জন্য বৈশাখী ভাতা প্রদান।
এসময় চা শ্রমিক নেতারা বলেন, যদি তাদের দাবী মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি চা বাগান এক সাথে কর্মবিরতীসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি পংকজ কন্দ, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশিরা ভ্যালীর সাধারন সম্পাদক দেবেন্দ্র বাড়াইক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বালিশিরা ভ্যালীর বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েত প্রধানগণ।

শেয়ার করুন!