অর্থনীতির গতিধারা উর্ধমুখী রয়েছে : অর্থমন্ত্রী



ফাইল ছবি।
অর্থনৈতিক রিপোর্টার :

মহামারী করোনা সঙ্কটে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোকে নতুন সম্ভাবনায় রূপ দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতিধারা উর্ধমুখী রয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশে ঘাটতি বাজেট অনুসরণ করা হয়। করোনার কারণে দেশে দেশে বাজেট ঘাটতি বেড়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। খাদ্য মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানি করা হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও তিন বছর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পণ্য কিনতে পারবে সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবি। এলএনজি আমদানিতে চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি ১৮তম অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত ও ২২তম সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার টিকা না দিলে ভারত টাকা ফেরত দেবে কি না, এটা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানে। তারা এটা দেখভাল করছে। তাদেরও (ভারত) সেখানে ভ্যাকসিন প্রয়োজন। এ অবস্থায় ভারতের বিকল্প বিশ্বের অন্যান্য সোর্স থেকে টিকা আনা হচ্ছে। তবে ভারতের সঙ্গে এখনও চুক্তি রয়েছে। অবশ্যই এটা ঠিক, তারা ফেল করলে টাকা ফেরত দেবেই।

বাংলাদেশ পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) প্রণোদনার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বাড়তি সময় চাচ্ছে। সময় কি দেয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কোন আবেদন আসেনি। এলে দেখব, কী করা যায়। ২০১৬ সালের ফেব্রæয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশ না করা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনী প্রক্রিয়ায় গেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলা চলমান। এ পর্যায়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। বাজেট ঘাটতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ১৮, ভারতের ১৩, জাপানের ১২ দশমিক ৯, চীনের ১১ দশমিক ৮৮, ইন্দোনেশিয়ার ৮ ও ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ভিয়েতনাম বাংলাদেশের প্রায় সমান। আগামী অর্থবছরে বিশেষ প্রণোদনায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। অর্থ বিলটি সংসদে পাস করব ২৯ তারিখে, সে পর্যন্ত আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।

নতুন অর্থ বছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন এবং সামনের অর্থবছরে পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ অনেক, চ্যালেঞ্জ নেই তা বলব না। তবে চ্যালেঞ্চগুলোকে সবসময় সুযোগ হিসাবে চিন্তা করি। কারণ ইতিহাস থেকে আমরা দেখেছি অর্থনৈতিক দেশ থেকে যখনই কোন চ্যালেঞ্জ আসে তাদের অপরচুনিটি বাড়ে। আমাদের অপরচুনিটিও বাড়বে। অর্থবছর শেষের দিকে চলে এসেছে, এখানেও দেখা যাচ্ছে তুলনামূলক বছরের প্রথম থেকে শুরু করি। বছর শেষে সামস্টিক অর্থনীতির গতিবিধি অনেক উর্ধমুখী হবে। অনেকেই ধারণা লক্ষ্যমমাত্রা অর্জন করতে পারব না, আমরা সেটি অর্জন করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে আমরা এটি করতে পেরেছি। রাজস্ব অর্জন ছিল প্রধান সমস্যা। রাজস্ব অর্জন এখন ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রফতানিতে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আছে। রিজার্ভের পরিমাণও ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছুঁই ছুঁই করছে, এ মাসেই ৪৬ বিলিয়ন ডলার হয়ে যাবে। রেমিটেন্সের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার, গত বছর ১৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।

ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সামনে কোন চ্যালেঞ্জ দেখছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি এ বছর পৃথিবীর সব দেশই অনুসরণ করছে। প্রণোদনা প্যাকেজ দেয়া হয়েছে। জনগণের কাছে টাকার যোগান দেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। এতে সবাই অন্তত খাবার পেয়েছে, মোটামুটিভাবে তারা তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পেরেছে। এইজন্য বাজেটে ঘাটতি আমাদের একার নয় সবার। জাতিসংঘের মহাসচিব প্রত্যেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে অনুরোধ করেছেন যা তে এই বিষয়টি সাংঘর্ষিক না হয়।

ভারত থেকে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানি ॥ ভারত থেকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানি করা হবে। ভারতের বাগডিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে চাল আমদানির জন্য ১৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশের খাদ্য মজুদ বাড়াতে সরকারী ও বেসরকারীখাতে চাল আমদানি করা হচ্ছে।

টিসিবি সরাসরি পণ্য কিনবে ॥ আগামী ২০২৩ সালের ২৬ মে পর্যন্ত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিদেশ থেকে অথবা স্থানীয়ভাবে পণ্য কিনতে পারবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শামসুল আরেফিন জানান, রাষ্ট্রীয় জরুরী প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবি কর্তৃক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, মসলা-শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, ধনে, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পামওয়েল, চিনি, লবণ (খাবার লবণ, বিট লবণ ব্যতীত) আমদানি অথবা স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা আগামী ২০২৩ সালের ২৬ মে পর্যন্ত ৩ বছর বৃদ্ধির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় জরুরী প্রয়োজনে কিছু পণ্য আমদানি করতে হয়, যেটা নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার স্থিতিশীল থাকে। সেজন্য গত কয়েকবছর যাবতই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) ২০০৬ এর ৬৮ (১) ধারার আওতায় এ সকল পণ্য সরাসরি ক্রয়ের একটি নিয়ম থাকে। টিসিবি পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, মসলা-শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, ধনে, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পামওয়েল, চিনি, লবণ (খাবার লবণ, বিট লবণ ব্যতীত) যখন প্রয়োজন হবে আমদানি করতে পারবেন।

এলএনজি আমদানিতে চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ॥ স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং দুবাইয়ের চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল এ্যান্ড পারচেজ এ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির (এমএসপিএ) সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠান চারটির মধ্যে রয়েছে- জাপানের ইটোচু কর্পোরেশন, সিঙ্গাপুরের গানভোর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, যুক্তরাজ্যের টোটাল গ্যাস এ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড এবং দুবাইয়ের শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লিমিটেড।

শেয়ার করুন!