সিলেটে গৃহকর্মীর শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন : রুপকথা !



ছবি-সংগৃহীত।
নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটে এক কিশোরী গৃহকর্মীর শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও মিডিয়াকর্মীরা গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর উপশহর ই-ব্লকের ১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাসা ফিরুজা মঞ্জিলের চার তলায় গিয়ে উপস্থিত হন। এরপর শুরু হয় তুলকালাম কান্ড। একপর্যায় পুলিশ নির্যাতিত কিশোরী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। এসময় পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনের অভিযুক্ত স্ত্রী ফারহানা আহমদ চৌধুরীকেও আটক করে শাহপরাণ থানা পুলিশ। তবে পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এনিয়ে চলে ঘন্টার পর ঘন্টা নাটকিয়তা। অবশেষে ঘটনার মোড় নেয় লোকদেখানো পুলিশী অভিযানের কেয়ামতের আলামত। তাও আবার শাহপরাণ থানা এলাকায়।

এরআগে বুধবার দুপুরে ওই বাসা থেকে গৃহকর্মী রুনার কান্না ও চিৎকারের শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা প্রথমে স্থানীয় কাউন্সিলর ও পরে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তালাবদ্ধ বাথরুম থেকে রুনাকে উদ্ধার করে। এসময় বাথরুম কক্ষে গৃহকর্মীর শরীরে ছিটিয়ে দেওয়া মরিচের গুঁড়া পড়ে থাকতেও দেখা যায়। পরে ওই বাসা থেকে বিকেল ৪টার দিকে রুনা ও গৃহকর্ত্রী ফারহানাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত ফারহানা আহমদ চৌধুরী পূবালী ব্যাংক সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী শাখার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বে আছেন বলেও জানা গেছে। ঘটনার দিন তার স্বামী মোহাম্মদ এমরান হোসেন জৈন্তাপুরে একটি অভিযানে ছিলেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এরপর ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি বাসায় ছুটে আসেন ।

এদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে সৃষ্ট হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত পুলিশ উভয়পক্ষের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে নির্যাতিত রুনাকে তার পরিবারের জিম্মায় আর অভিযুক্ত ফারহানাকে স্বামীর জিম্মায় সমজিয়ে দেয়া হয়। ওই নির্যাতিত কিশোরীকে সরাইল উপজেলা থেকে এক মাস আগে নিয়ে আসা হয় বলেও জানানো হয়।

এরপূর্বে অভিযুক্ত ফারহানা রুপকথার গল্পকেও হার মানিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে রুনা ভয় পাচ্ছে আর বলছে কেউ নাকি তাকে স্পর্শ করছে। সকালেও একই কথা বলে বাথরুমে ঢুকে কান্না শুরু করে। ওই সময় গিয়ে জিজ্ঞেস করলে মরিচ দেওয়ার কথা বলে। মরিচ দিলে নাকি ওই অদৃশ্য বিষয়টি চলে যাবে। তিনি বলেন, কিন্তু আমি দিইনি। পরে সে নিজেই নিজের শরীরে মরিচ দেয়। সরাইল উপজেলা থেকে এক মাস আগে তাকে নিয়ে আসা হয় বলে জানান ফারহানা।

অপরদিকে নির্যাতিত মেয়েটি বার বার পুলিশের নিকট কান্নাজড়িত কন্ঠে আবদার করছিল তাকে যেন ওই বাসায় রেখে না যাওয়া হয়। তাকে প্রতিসপ্তাহে নির্যাতন করতেন ওই পাষন্ড ফারহানা। ওই কিশোরীর শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও ভিডিও ধারণের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ভিকটিম প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। অথচ থানা হেফাজতে তাকে নিয়ে যাওয়ারপর ঘটনার মোড় নেয় নির্যাতনের কোনো প্রমাণ মিলেনি। মেয়েটি বাড়িতে যাওয়ার বায়না ধরলে গৃহকর্ত্রী তাকে ভয় দেখিয়েছিলেন। রুনাকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এইভাবে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন শাহপরাণ (র.) থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আনিসুর রহমান।

শেয়ার করুন!