যুক্তরাষ্ট্র হয়ে মেক্সিকোতে পাচার হচ্ছে বাংলাদেশ’র রেমডেসিভির



ফাইল ছবি।
সিএনবাংলাদেশ ডেস্ক :

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় বহুল ব্যবহূত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের ‘অননুমোদিত অথবা জেনেরিক’ সংস্করণ বাংলাদেশ ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে মেক্সিকোতে পাচার হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
তদন্তকারীদের বরাতে পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গিলিয়াড সায়েন্সেসের তৈরি করা রেমডেসিভিরের ‘নকল অথবা জেনেরিক সংস্করণ’ বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আকাশ পথে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের মাধ্যমে। তারপর সেখান থেকে তা পাঠানো হচ্ছে মেক্সিকোতে, যেখানে অনেক রোগী চড়া দাম দিয়ে ওই ওষুধ কিনছেন।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন ইউনিট এরকম শতাধিক চালান আটক করেছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটির গোয়েন্দাদের বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি পরীক্ষা করে দেখছে জব্দ করা রেমডেসিভিরগুলো নকল, নাকি জেনেরিক ফর্মুলায় তৈরি করা।
বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন কোম্পানির জেনেরিক রেমডেসিভির তৈরির অনুমোদন রয়েছে। তবে সেসব ওষুধ যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোতে বিক্রি বা ব্যবহারের অনুমতি নেই। এ বিষয়ে গিলিয়াড কর্তৃপক্ষ বলেছে, অনুমোদিত ও আইনসম্মত সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কোনো ওষুধ সংগ্রহের বিষয় তারা সতর্ক করেছে। রোগীদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে পদক্ষেপ নেবে, তাতে তারা সহযোগিতা দিয়ে যাবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, সাধারণত নকল বা অনুমোদনহীন ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয় কনটেইনারের গায়ে অন্য ওষুধের নাম লিখে, যেটা সেখানে বিক্রি করতে বাধা নেই। কখনও কখনও পানি বা স্যালাইন সলিউশনের নাম করেও অননুমোদিত ওষুধ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের হিসাবে, চোরাইবাজারে এভাবে বছরের ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ওষুধ বিক্রি হয়।
বিশ্বকে বিপর্যস্ত করা করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ এখনও মানুষ তৈরি করতে পারেনি। তবে হাসপাতালে জটিল কভিড রোগীদের চিকিৎসায় যেসব পুরোনো ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার অন্যতম রেমডেসিভির। এই অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ সরাসরি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না, তবে আক্রান্তদের কিছু উপসর্গের উপশমে সহায়তা করে বলে ধারণা পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ কভিড রোগীর ওপর এ ওষুধ প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে মত দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেক্সিকো সম্প্রতি কভিড রোগীদের রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ায় সেখানে এ ওষুধের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মেক্সিকোর ওষুধ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, এ ধরনের নকল ওষুধের কারবার নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজ করবে।

শেয়ার করুন!