সাংবাদিক অরুন একটি ব্র্যান্ডের নাম



জুনেদ আহমদ চৌধুরী //

সাংবাদিক অরুন সরকার একটি ব্র্যান্ডের নাম। একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমার পরও নির্ভীক বস্তু নিষ্ট সংবাদ প্রেরণ করছেন যা নজিরবিহীন। আজকাল অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদন পত্রিকার পাতায় খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু অরুন সরকার অপরাধ রাজ্যের বিরুদ্ধে কলম চালিয়ে যাচ্ছেন অবিচল। সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গুরুত্বপুর্ন প্রতিবেদন তার নজর এড়াতে পারে না। বিশেষ করে চোরাকারবারী, বিভিন্ন ধরনের মাদকের চালান, অস্ত্রসহ হরেক ধরনের ভারতীয় পণ্যসামগ্রী চালান রোধে তার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইতোমধ্যে এনিয়ে বেশ কয়েকটি অনূসন্ধ্যানী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন সহ জাতিয় দৈনিকে। এতকিছুর পর তাকে ফাঁসানো হয় ষড়যন্ত্রমূলক জজ মিয়া নাটক সাজানো মিথ্যা মামলা-মোকাদ্দমায়। কখনও তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আবার কখনও মাদক দ্রব্য দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে। তাও ফাঁসিয়ে দিচ্ছে র্যাব-৯’র এলিট ফোর্স নামক কতিপয় অর্থপিপাষুর একটি সিন্ডিকেট দল। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 

আমার কাছ থেকে দেখা ওই সাংবাদিক একজন প্রতিবাভান তরুণ যুবক। তার কলম চলে সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পথে। তিনি কারো তাঁবেদারি করেন না। কোন মিছিল-মিটিং সভা-সমাবেশ বা কোন নেতাকর্মীর পিছুও দৌড়ঝাপ দিতে নারাজ। তিনি নিজের পরিচয়ে মুক্ত বাতাসে চলাফেরা করতে পছন্দ করেন। মাঝে মধ্যে তিনি কলামও লিখে থাকেন। কোনদিন গলায় কার্ড ঝুলিয়ে বা প্রেস লেখা সু্যট ব্যাবহারও করতেন না। সাদাসিদে জীবণ-যাপন করতে তিনি প্রচুর ভালবাসেন। সাংবাদিক পরিচয় দিতে তিনি লজ্জাবোধ করতেন আর বলতেন কোন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয় নেই। কারন তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয় গ্রহণযোগ্য নহে। গোয়েন্দার ন্যায় কাজ করতে পারলেই তবেই তুমি সাংবাদিক। কোন প্রকৃত সাংবাদিকের বন্ধু নেই, সংগঠন নেই। তবে এটাও তিনি বলতেন সাংবাদিক মানেই এক পা তোমার কারাগারে আর অপর পা বাহিরে। আজ তার বেলায় তাই ঘটছে। পুরো জাতিকে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করে কলম চালাতে হয়। এরমত আনন্দের আর কি আছে।

 

যখন শুনি তারমত একজন সহজ সরল লোককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে আবার কখনও ৬৮ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে তখন নিজের মনটা ছোট হয়ে যায়। শুধু তাই নয় কিছু মানুষকে বিব্রত করার লক্ষ্যে নামসর্বস্ব হীন ভূইফোড় অনলাইন, ফেসবুক লাইক পেজ সহ স্বার্থান্বেষী হলুদ সাংবাদিকরা তার ব্যক্তিগত ছবিসহ প্রকাশ করিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত হল যে, ঈর্শ্বান্বিত হয়ে জজ মিয়া নাটকের লালন পালনের সহীত তারাও কোন না কোন ভাবে জড়িত। দু’একটি গণমাধ্যম এমনও শিরোনাম করেছে ইয়াবা ব্যাবসায়ী অরুন ফের গ্রেপ্তার। কেউ কেউ লিখেছেন কথিত সাংবাদিক অরুন গ্রেপ্তার। আবার কেউ তার চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করার চেষ্টাও করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দেশের বহুল প্রচারিত একটি দৈনিক পত্রিকা মানবজমিন। ওই পত্রিকার বিএনপি-জামায়াত পন্থি কথিত এক স্টাফ রির্পোটার তার লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন সাংবাদিক অরুন সরকার ভারত থেকে ইয়াবার চালান দেশে প্রবেশ করিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করছেন। তিনি তার লেখায় আরও উল্লেখ করেছেন অরুন সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় নাকি তিনি অতীতেও কারাভোগ করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

সত্যেকার অর্থে ওই স্টাফ রির্পোটারের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও সিলেটে রয়েছে গুঞ্জন। তার বিবাহ বন্ধন নিয়েও রয়েছে কত গল্প কাহীনি। তারপরেও তিনি ওই পত্রিকায় রয়েছেন বিশাল তবিয়তে। তার সাথে রয়েছে বিশাল একটি প্রভাবশালী চোরাকারবারী সিন্ডিকেট গ্রুপ। তাদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেকে তিনি অনেক বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবেদকের কোন বক্তব্য না নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করিয়ে মান ক্ষুন্ন করাই তার নেশা ও পেশা। কেউবা তাকে আবার কার চালক হিসেবে চিনে। একই দূরাবস্থা অন্যান্য সহযোগী ভূইফোর অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর। তাদের টার্গেট সাংবাদিক অরুন সরকারের দিকে। তাইতো তারা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষন না করে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। কারন ওই বানরের দল মূল ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা নিজেও জানতো না চতুল বাজার সংলগ্ন মদিনা কমিউনিটি সেন্টারে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। আর র্যাব-৯ সেই স্থানকে ঘটনাস্থল বানিয়েছে। সেই রাতে অরুন সরকারের দেহ তল্লাশী করা হয়নি। তার দেহ তল্লাশী করা হয় জৈন্তাপুর মডেল থানায় তাকে নিয়ে যাওয়ার পর। তাও রিপন নামের একজন কন্সটেবল দেহ তল্লাশী করেন থানায় থাকা সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজের সামনে। তখন তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মানিব্যাগ, সাংবাদিকতার আইডি কার্ডসহ অল্প কিছু টাকা। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় ওই সাংবাদিকের প্যান্টের পকেট থেকে কিভাবে র্যাব ৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করলও? আর উদ্ধার করলে মানিব্যাগ, সাংবাদিকতার আইডি কার্ড ও সেই টাকাগুলো কেন এর আর আগে উদ্ধার করতে ব্যার্থ হল র্যাব-৯’র সদস্যরা। যদি সেই রাতের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজগুলো সংগ্রহ করা হয় তাহলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল!

ঘটনাকালীন সময়ে কয়েকজন র্যাব সদস্য বার বার বলাবলি করছিল বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযান দিচ্ছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছেনা। এছাড়া উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের উপর বেশ নারাজ হয়ে পড়েছেন। এসময় তাদের মুখ থেকে নাম আসে লুৎফুর নামক একজন এএসপির নাম। ওইদিন যদি তারা ব্যার্থ হয় তাহলে তাদের বিরাট ক্ষতি হবে বলেও মন্তব্য করছিল। সেই সূবাধে তাদের একটি অভিযানের দরকার ছিল । তারা আরও বলাবলি করছিল তাদের নিজেদের কাছে কিছু ইয়াবা রয়েছে প্রয়োজনে সেগুলো রিকোভারি দেখিয়ে ইজ্জত রক্ষা করতে হবে। এসময় র্যাব’র এক সোর্স বলছিল তফজ্জুল নামক এক ব্যক্তির নাম। সে বলাবলি করছিল তফজ্জুলের বিরুদ্ধ লোক আব্দুল করিম ও তার ভাতিজা সোহেলকে ইয়াবা দিয়ে চালান করে দেন। তাহলে আমাদের অভিযান ঠিক থাকবে। পরে ওই সোর্স গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ তালিকায় থাকা এক চোরাকারবারীর নাম ও কথিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম বলে। সরকারী চাল আত্মসাৎকারীর নামও বলাবলি করছিল। তারা হল ৫ নং-ফতেহপুর ইউনিয়নের হেমু হাউদপাড়া গ্রামের রফিক আহমদ ও একই গ্রামের জাকারিয়া মাহমুদ। এসময় র্যাব সদস্যদের সে জানায় অরুনকে গ্রেপ্তার দেখালে তারা তাদেরকে বড় অংকের উৎকুচ দিবে। যেই কথা সেই কাজ। নির্যাতন করা হল চাচা-ভাতিজাকে। আর তিনজনকে ভাগবাটোয়ারা করে দেখানো হল ইয়াবা!

এদিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে র্যাব-৯’র পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নীল রংয়ের দুটি প্যাকেট-এ ইয়াবা রাখার ছবি । আর মামলায় দেখানো হয়েছে তিনটি ইয়াবার প্যাকেট। সেখানে তারা উল্লেখ করেছে বিক্রয় ও নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধ। যদি সেই রাতের র্যাব-৯’ অফিসের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় তাহলে বেরিয়ে আসবে সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অপরদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে মানবজমিন পত্রিকার সেই বাচাল স্টাফ রির্পোটারের সাথে গভীর সখ্যতা রয়েছে জাকারিয়া মাহমুদের। সংবাদ প্রকাশ থেকে শুরু করে গুরুত্বপুর্ন আলাপ তাদের মুটোয়ফোন কল লিষ্ট সংগ্রহ করলে বেরিয়ে আসবে কেঁচো। এছাড়া সাংবাদিক অরুনকে বিনষ্ট করতে ও জনসম্মূখে তোলে ধরে তার ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করিয়ে তারা হীণমান্যতার পরিচয় দিয়েছে। কারন ওই মামলায় তিনজনকে আসামী করা হয়েছে কিন্তু রহস্যজনক কারনে শুধুমাত্র সাংবাদিক অরুনের ছবি প্রকাশ করা হয়। এতে বুঝা গেল তাদের টার্গেট ছিল ওই ব্র্যান্ডের দিকে। যার নাম সাংবাদিক অরুন সরকার। তিনি শুধু একটি ব্র্যান্ড নয় বনের রাজা সিংহও বটে।

জুনেদ আহমদ চৌধুরী

সিএনবাংলাদেশ ডট কম

বার্তা সম্পাদক

শেয়ার করুন!