সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠে বিডি সার্ট



ফাইল ছবি।
সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

বাংলাদেশ ব্যাংক, পাসপোর্ট অফিস, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এবার মাঠে নেমেছে তথ্য ও প্রযুক্তি যোগাযোগ বিভাগের ই-গবর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিডি সার্ট)।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশ ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিসহ দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার শিকার হয়। এরপর থেকে আরও শক্ত হাতে মাঠে নেমেছে এ টিম।

ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন টিমের সদস্যরা। দেশের দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে দেবেন সুখবর। ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি অফিস সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির পরিচালক (অপারেশন) তারেক এম বরকতউল্লাহ বলেন, আমাদের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অফিসের তথ্য নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

এসব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ হচ্ছিল, এবারের কাজ হবে আরও শক্তিশালী।

এ প্রযুক্তিবিদ বলেন, হ্যাকাররা মূলত তথ্য চুরি ও ব্ল্যাকমেইল বেশি করে। অনেক সময়ে বড় ধরনের ক্ষতিও করে থাকে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় প্রভাব ফেলে।

এছাড়া, হ্যাকাররা খুব দক্ষ হয়ে থাকে। এরা সিস্টেম ক্র্যাশ করে ভেতরে ঢুকতে পারে এবং নিজেদের লুকায়িতও রাখতে পারে। প্রোগ্রামিং সম্পর্কেও এদের ভাল ধারণা থাকে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি সূত্র জানায়, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিজিডি ই-গভ সার্ট) একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে। এখানে সব দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।

অনেকেই বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে সব ধরণের কাজ করছেন তারা। এতে কোটি কোটি টাকাও সাশ্রয় হচ্ছে।

রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে ১২ তলায় শতাধিক কর্মীর এ বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কোন দেশ থেকে কখন কীভাবে সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে বা চালানো হয়, কোন সাইট, প্রতিষ্ঠানে হামলাগুলো হচ্ছে, সব কিছুর ডকুমেন্টস জমা করছে এ টিম। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহায়তা দিচ্ছেন এ টিমের সদস্যরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. হোসেন আসিফুল মুস্তাফা মনে করেন, এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল কার্যক্রম রয়েছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা থাকা উচিত।

তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগটি খুবই ভালো। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাইবার হামলা ঠেকাতে কাজ করা খুবই জরুরি।

কেননা হ্যাকারদের লক্ষ্যই থাকে কোনো দুর্বল জায়গা খোঁজা। তারা যদি কোনো কিছু হ্যাক করার সুযোগ পায়, তাহলে অবশ্যই আঘাত করবে।

এছাড়া এক শ্রেণির হ্যাকার আছেন, তারা নিজেদের যাচাই-বাছাই করতে বিভিন্ন সাইট, অ্যাপে আঘাত করে।

সুতরাং সাইবার হামলা ঠেকাতে সচেতনতার পাশাপাশি পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি।

শেয়ার করুন!