ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সড়ক দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ



স্টাফ রির্পোটার :

সিলেট নগরের শিবগঞ্জ সোনাপাড়া নবারুন এলাকায় নিজস্ব রাস্তা ছাড়াই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রবাসীর রাস্তা দেখিয়ে ও জায়গা দখল করে বহুতল ভবন করেছেন কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান একেএম সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এমনকি তিনি ভবন নির্মাণে সন্ত্রাসী ব্যবহার, হামলা ও ড্রেনের কাজে বাধা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী, সোনারপাড়া নবারুন ২ নম্বর বাসার মালিক সাজ্জাদুর রহমান মুন্না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী মুন্না বলেন, তার রাস্তা দেখিয়ে ভবন নির্মাণের পর ফ্ল্যাট বিক্রি করছেন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল। এমনকি তার মালিকানাধীন রাস্তার জায়গার অংশ বিশেষও ভবনে ঢুকিয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল জালিয়াতি করে বহুতল ভবন নির্মাণ ও সন্ত্রাসী কায়দায় অন্যায়ভাবে এসব করছেন বলে দাবি করেন মুন্না।

কুলাউড়ার চকেরগ্রাম কাজলদারা বাসিন্দা মুন্না লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৭ সালে সোনারপাড়া নবারুন ২ নম্বার বাসাটি ক্রয় করে বসবাস করছেন। পাশে জায়গা ক্রয় করে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল। তিনি অধিকাংশ সময় প্রবাসে থাকার সুযোগে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল তার মালিকানা রাস্তা ব্যবহার করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এতে তার এক দাগ থেকে ২৮ পয়েন্ট ও আরেক দাগ থেকে ৫৮ পয়েন্ট রাস্তার জায়গা ভবনে অন্তর্ভুক্ত করেন নজরুল। ইউপি চেয়ারম্যান ভবনের কাজ শুরুর পরে কৌশলে সিটি করপোরেশন থেকে ভবনের অনুমতি নিয়েছেন। তার দলিলে কোনো রাস্তার উল্লেখ না করে সেই জায়গা ভূমি লিখিয়েছেন। নিজস্ব রাস্তা না রেখে তিনি কিভাবে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এ নিয়ে শালিস হলে চেয়ারম্যান দাবি করেন তিনি হাওয়ার উপর ভবন নির্মাণ করছেন।

মুন্না জানান, বার বার নিষেধ করার পরও চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। যা এখন সমাপ্তির পথে। বাঁধা দেওয়ায় গত ২১ আগস্ট তারা হামলা করে। এমনকি রাস্তার ড্রেনের কাজ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা তা ভেঙ্গে ফেলে। তারা জোরপূর্বক মাঠি দিয়ে ড্রেন ভরাট করে ফেলে। শাহপরান থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। ড্রেন ভরাট করায় বৃষ্টির সময় বাসায় পানি বাসায় উঠে পড়ছে বলে জানান মুন্না।

বক্তব্যে প্রবাসী মুন্না আরও জানান, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এসব করছেন। তার ভবনের নির্মাণ সামগ্রী চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। জায়গা ও রাস্তা দখলসহ তার অন্যায় কর্মকাণ্ড বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানানোর পর তা নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হয়। বিচারে রাস্তা ও জায়গা দখলের বিষয়টির সত্যতা পান বিচারকরা। তারা কারো রাস্তা আলাদা করা কিংবা ভবন ভাঙ্গার বিষয়টি তাদের এখতিয়ারে নেই বলে জানান। পরে সিটি করপোরেশনে অভিযোগ করার পর সার্ভে করা হয়। কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। কিন্তু তা আমলে নেননি নজরুল।

ইউপি চেয়ারম্যানের অবৈধ কাণ্ডের কারণে বার বার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে উল্লেখ করে সাজ্জাদুর রহমান মুন্না বলেন, আমি একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। আমি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। জালিয়াত ও অবৈধ দখলদার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আমার রাস্তা ও জায়গা উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

শেয়ার করুন!