কানাইঘাটে বোমা বিস্ফোরণের পর থেকে দুই ঘটনাকারী পলাতক, অভিযোগ!



আহত সুলতান, ছবি-সিএনবাংলাদেশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফলোআপ। কানাইঘাটে বোমা সাদৃশ্য বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় অবশেষে নামোল্লেখ করে তিনজনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় অভিযোগটি দায়ের করেন কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেহগঞ্জ গ্রামের সৌদি প্রবাসী ফরিদ উদ্দিনের ছেলে ভিকটিমের বড় ভাই মাহমুদ হাসান।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা সেপ্টেম্বর সকালে একই গ্রামের আমিন উদ্দিনের স্ত্রী সাফিয়া বেগম ভিকটিম শিশু সুলতানের বসতবাড়িতে ঢুকে টর্চলাইটের ভেতরে হাতে তৈরী একটি বোমা সাদৃশ্য বস্তু রেখে চলে যায়। এসময় তাকে সঙ্গ দেয় মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্র সাজু আহমদ। অভিযোগে বাদি আরও উল্লেখ করেছেন, পহেলা সেপ্টেম্বর একটি মোকাদ্দমার হাজিরার জন্য সিলেট আদালতে চলে আসেন ভিকটিম শিশু সুলতান ও তার মা সুফিয়া বেগম। একপর্যায় ভিকটিমের দায়ের করা আরেকটি মামলায় বিজ্ঞ আদালত বিবাদী রাসেল রবিকে জালিয়াতি মামলায় শুনানী শেষে কারাগারে প্রেরণ করেন। তখন আদালত প্রাঙ্গনে রাসেল রবি বাদিনী সুফিয়া বেগমকে বাড়িঘর গুড়িয়ে দিবেন বলেও হুমকি প্রদান করেন। কিন্তু সেই দিন বাদিনী তার কথায় কোন কর্ণপাত করেননি। পরে বাড়িতে যাবার পর রাত আনূমানিক ৮টার দিকে খেলার চলে শিশু সন্তান সুলতান টর্চলাইট নড়াচড়া করলে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। সাথে সাথেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সুলতান।

এদিকে খুজ নিয়ে দেখা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে এ পর্যন্ত ভিকটিমের পরিবারের উপর বিভিন্ন ধারায় ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা বানোয়াট অন্তত প্রায় ৭/৮টি মোকাদ্দমা দায়ের করে ওই দুর্বৃত্ত গোষ্ঠি। তবে রহস্যজনক হলেও সত্য যে, ইতিমধ্যে দুর্বৃত্তদের দায়ের করা ৭টি মামলার রায় ভিকটিম পরিবারের পক্ষে আদালত রায় দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা কোন উপায়ান্তর না পেয়ে তার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনায় মেতে উটে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ি কৌশল কাটিয়ে পহেলা সেপ্টম্বর ভিকটিমের বসতবাড়িতে বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি টর্চলাইটের ভেতরে রেখে পালিয়ে যায় এ দুর্বৃত্তরা। এমনকি ঘটনার দিন থেকে আজও তারা পলাতক। যদিও স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে স্থানীয় এলাকার কথিত কিছু শাসকদলীয়কর্মী তাদের শেল্টার দেওয়ার কারনে থানা পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় এলাকায় তাদের রয়েছে বড় একটি সিন্ডিকেট দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসী গ্রুপ। এ ঘটনায়ও তারা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে আলামত বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। উল্টো ভিকটিমের পরিবারকে হয়রানি করতে বিভিন্ন পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
এনিয়ে শনিবার ভিকটিমের বড় ভাই মাহমুদ হাসান প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন, থানা পুলিশ তাদের কথায় উটেবসে। একের পর এক মোকাদ্দমা রুজু করিয়ে তাদের নিঃস্ব করিয়ে দিচ্ছে এই দুর্বৃত্তরা। এসময় তিনি বলেন, ঘটনার দিন থেকে তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীণতায় ভুগছেন। তাদেরকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে কৌশল অবলম্বন করে এই বোমা টর্চলাইটে সংযুক্ত করে রেখেছিল তারা। তিনি আরো বলেন, ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে বিভিন্ন ধরণের চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় অসাধু দু’একজন থানা পুলিশ সদস্য। এমনকি তারা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও ভুল তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছে ।

এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত কানাইঘাট থানা পুলিশ অভিযোগটি এফ আই আর হিসেবে গণ্য করেনি বা আসামি গ্রেপ্তারে কোন উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেনি। তবে থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখা অভিযোগ প্রাপ্তীর কথা স্বীকার করেছে।

শেয়ার করুন!