কিশোরগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন



মোঃ ফাইজুল হক গোলাপ, কিশোরগঞ্জ :

কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের পরিবারের লোকজন।
গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় পাবলিক লাইব্রেরী হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, দিলালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চান মিয়া, নিহত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা আক্তার ও পুত্র সোহাগ মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাজিতপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের পরিবার ও দিলালপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। অন্যদিকে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের পরিবারের বিভিন্ন অভিযোগ থানা পুলিশ আমলে নিচ্ছে না। এমনকি দিলালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় মামলা নথিভূক্ত হলেও বর্তমান দিলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও হত্যা মামলার আসামী গোলাম কিবরিয়া নোভেল ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা থানায় নথিভূক্ত করছে না বলে দাবী করেন আওয়ামী লীগ নেতা চান মিয়া।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ২০২০ সনের ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে আওয়ামী লীগের নেতাদের চাপে হামিদুল, রিয়াজ ও দুলালের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়। এছাড়াও জাওলাপাড়া পাঠানকান্দি গ্রামের মোঃ ভুবন মিয়া ও ভুবনের দাদীকে কুপিয়ে আহত করলেও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। থানার নিরবতার কারণে ০৭/৬/২১ ইং তারিখে বাহেরনগর গ্রামের বছিরের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়। এর আগের দিন ০৬ জুন ছাবেদের বাড়িতেও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় এবং ০৭/৬/২১ ইং তারিখে প্রকাশ্যে দিবালোকে আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চান মিয়াকে হত্যা উদ্দেশ্যে পিটিয়ে আহত করে চেয়ারম্যান কিবরিয়ার লোকজন। এমনকি ০৩/৯/২১ ইং তারিখে দিলালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন শাফীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাংচুর করে। এছাড়াও বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগের ৪ থেকে ৫শত নেতাকর্মীদের বাড়ি ছাড়া করে রেখেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন ঠিকাদারীসহ সরকারি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩০/৪০ কোটি টাকার কাজ স্থানীয় এমপির মাধ্যমে ভাগিয়ে নেয়।
উক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া নোভেলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ঢাকার ওভারসি কোম্পানি থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি কাজ সাবকন্ট্রাকে এনেছি। এছাড়াও এলাকায় দুই বাড়ির দ্বন্দ্বে মুজিবুর রহমান নিহত হন। উক্ত মামলায় আমাকে মিথ্যা আসামী করা হয়েছে। আমি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত আছি।

শেয়ার করুন!