কানাইঘাটে এক ভুক্তভোগী পরিবারের ৯৯৯’এ কল, মিলেনি উপকার !



ফাইল ছবি।
কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি :

সিলেটের কানাইঘাটে ৯৯৯-এ কল দিয়েও কোন উপকার পায়নি এক ভুক্তভোগী পরিবার। এনিয়ে চলছে জল্পনা। ঘটনাটি ঘটে গতকাল রোববার (১২ সেপ্টম্বর) বিকেল আনূমানিক আড়াইটার দিকে।

এর ফাকে উপজেলার ২নং-লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের বাউরবাঘ গ্রামের লনি গোপালের বসতবাড়িতে থাকা সাগরকলা ছিনিয়ে নিয়ে যায় প্রতিবেশি একটি লুটতরাজকারী ভুমিখেকো প্রতারকচক্র।

জানা গেছে, লনি গোপালের বসতবাড়ি ও ক্ষেতের যায়গাসহ তিনি মোট ৮বিঘা জমির মালিক। সেই জমি আত্মসাৎ করতে তাদের এক আত্মীয় পরিবার উটেপড়ে লেগেছে। ভুমিখেকো ওই প্রভাবশালী পরিবার তাদেরকে বিতারিত করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রমুলক মামলা-মোকাদ্দমাসহ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে। যদিও লনি গোপালের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৮জন। এর মধ্যে তিন ছেলে এক মেয়ে ও দুই নাতিসহ তারা স্বামী-স্ত্রী বসবাস করে আসছেন। পূর্বপুরুষের এই ভিটেমাটিতে তিনি তার পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু পারাপ্রতিবেশি কিছু ভুমিখেকো চক্র তার জমিজমা জবর দখলে নিতে মরিয়া হয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর এই বাড়ির যায়গায় তিনি বিভিন্ন ধরণের ফল রুপন করে বাজারে তা বিক্রয় করে পরিবারের ভরন পোষন চালিয়ে যান। বর্তমানে তার এক ছেলে কানাইঘাট ডিগ্রী কলেজে ও অপরজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। আরেক ছেলে বাড়ি দেখাশুনা করেন। সেই সূযোগে তার কাকাতো ভাই মাখন বৈদ্য গং-রা স্থানীয় এলাকার কতিপয় ভুমিখেকো চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে উক্ত যায়গা হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উটেছে। প্রতিনিয়ত বাড়ির যায়গা দখল নিতে বিভিন্ন সময় অসময়ে হাজার হাজার টাকার ফসলাধি কেটে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তিনি কোন প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের উপরে চলে হামলা-মামলাসহ জমি দখলের মহোৎসব। ইতোমধ্যে প্রায় ২বিঘা ফসলি জমি জবর দখলে ছিনিয়ে নিয়েছে ওই সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীণতায় ভুগছেন। তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছে তারা। যে কোন সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর জোর-জুলুম, নির্যাতন, হামলা-মামলা, খুন, গুম তারা করতে পারে। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার শালিস বৈঠক বসলেও কোন সূরাহা হয়নি। বরং তাদের উপরে ঝুলছে মোকাদ্দমার ষ্টিম রোলার। এমতাবস্থায় গতকাল রবিবার লনি গোপালের বসতবাড়িতে দুর্বৃত্তরা অনধিকার প্রবেশ করে প্রায় ৫হাজার টাকার কলা কেটে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এর আগের সপ্তাহে একই কায়দায় তারা প্রায় ৩০-৪০হাজার টাকার ফসলাধি ছিনিয়ে নেয়। এভাবেই চলছে তাদের দৌড়াত্ব। থানা পুলিশে খবর দিলেও টনক নড়েনা প্রশাসন কর্তাদের। শেষ ভরষা হিসেবে রবিবার (৯৯৯-এ) কল দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত কেউ আর এগিয়ে যায়নি।

এ বিষয়ে প্রতিবেদকের কাছে লনি গোপাল ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, তিনি ও তার পরিবার রয়েছেন চরম হুমকির মুখে। থানা পুলিশে গেলে তারা তাকে আদালতে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন। তাদের কাছে তাৎক্ষনিখভাবে কোন ঘটনার সূবিচার পাওয়া যায়না! এসময় তিনি বলেন, স্থানীয় ইউনিয়নের ভুমিখেকো এক ধনাঢ্য কথিত চেয়ারম্যান এ দুর্বৃত্তদের গডফাদার হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত যতটি ঘটনা ঘটেছে তার ঈশারায় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, একসময় তিনি অসূস্থ হয়ে পড়লে অবুঝ সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েন। সেই সময় বাড়ির রের্কড-নামজারি ধরাতে খরচপাতিসহ সকল কাগজাদি ঠিক করতে তার কাকাতো ভাই হিসেবে তাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন তার সরলতার সূযোগ নিয়ে প্রতারকরা মারজরিপ ফর্সায় ৬৫শতক ভুমি তাদের নামে লেখিয়ে নেয়। বর্তমানে সেই রের্কড ভাঙ্গতে তিনি ল্যান্ডটার্মিনালে মামলা করেছেন। ইদানিং অবস্থার বেগতিক দেখে দুর্বৃত্তরা কানাইঘাটে একটি প্রেসকনফারেন্স করিয়েছে। একদিকে তারা নিজেদের আত্মরক্ষার কৌশল বেছে নিয়েছে অন্যদিকে জমি জবর দখলের অপচেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সহযোগীতা ও প্রতিকার দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে মাখন বৈদ্যকে না পেয়ে তার ছোট ভাই সুধির বৈদ্য’র সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাগর কলা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কানাইঘাট থানায় তাদের যায়গাসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এসময় তিনি বলেন, জেমস লিও ফারগুসন নানকা চেয়ারম্যান আরো ভালো বলতে পারবেন বলে জানান।

এনিয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল মালিকের সাথে মুটোফোনে আলাপকালে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত সপ্তাহের শনিবারেও মাখন বৈদ্য, সুধির বৈদ্য, আশু বৈদ্য ও অজয় বৈদ্য মিলে ১৩টি জাই বাঁশ, লেবু, তেজপাতা, কদমগাছ ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়া অনেক ফসলাধি বিনষ্ট করেছে। তিনি আরো বলেন, তারা সবসময় আগে থেকেই এই পরিবারের সাথে দ্বন্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে। কয়েকবার তিনি নিজেও সমাধানের চেষ্টা করেছেন কিন্তু কোন কাজের কাজ হয়নি।

শেয়ার করুন!