কানাইঘাটে বোমা বিস্ফোরণে চাঞ্চল্যকর তথ্য!



ছবি-সংগৃহীত।
স্টাফ রির্পোটার, সিলেট :

সিলেটের কানাইঘাটের বোমা সাদৃশ্য বস্তু বিস্ফোরণে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। ঘটনার দিন তারিখ ও সময়ে ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা টর্চলাইটে বিস্ফোরক জাতিয় দ্রব্য পদার্থ মেশিয়ে থাকতে পারে বলে অনেকের ধারণা। কারন টর্চলাইট বিস্ফোরণের পর পরই বিকট শব্দ হয় এবং চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায় ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য অলিউর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরবর্তীতে তিনি ঘটনা সর্ম্পকে কানাইঘাট থানা পুলিশকে মুটোফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু রহস্যজনক হলেও সত্য যে, ওইদিন রাতে থানা পুলিশ সরেজমিনে যায়নি। এ ঘটনার দুইদিন পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কোন আলামত সংগ্রহ ছাড়াই খালি হাতে ফিরে আসে। শুরু হয় প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা। কারন থানার এসআই মোজাম্মেল’র সঙ্গে গভীর সখ্যতা রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল রবি’র। বন্ধুত্বপুর্ন সর্ম্পক থাকায় তিনি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ না করেই থানায় ফিরে আসেন। গুজব রটাতে থাকেন টর্চলাইট বিস্ফোরণে শিশু সন্তান সুলতান আহত হয়েছে। এমনকি তিনি অতি উৎসাহি হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করতে থাকেন। একপর্যায় আরেক এসআইয়ের কাছ থেকে মামলাটির তদন্তবার তিনি নিজের কাদে তুলে নেন। ব্যাস! কিচ্ছা খতম।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্র নিশ্চিত করেছে, সুলতান মাটিতে লুটে পড়ার পরেই ওই এলাকার ৩/৪ জন লোক তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানি হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তী করান। আর সরেজমিনে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে আসেন ভিকটিমের মা’কে । জ্ঞান ফেরার পরেও সারারাত তিনি উন্মাদ ছিলেন। পরদিন একজন পল্লীচিকিৎসক তার অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয়ভাবে তিনি তাকে চিকিৎসাসেবা দেন। বর্তমানেও তিনি শোকে কাতর হয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, দীর্ঘদিন থেকে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল শাফিয়া বেগম ও রাসেল রবি গং-দের সাথে। ভিকটিম ও তার মা ওইদিন আদালত থেকে বাড়িতে ফিরে আসার পরেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সম্পন্ন ব্যাপারটি চক্রান্তমুলক বলেও তাদের দাবি। তারা বলেন, ঘটনার সূষ্ট তদন্ত ও বিচারের দাবিতে খুব তারাতারি আন্দোলনের ডাক দিবেন। ইতোমধ্যে আন্দোলনের সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন।

অপরদিকে ভিকটিমের বড় ভাই মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে দুইজন আসামি গা ঢাকা দিলেও ফের তারা এলাকায় এসে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। কতিপয় অসাধু পুলিশের এহেন কর্মকান্ডে তিনি আশংকা করছেন পুরো ঘটনা ভিন্ন পথে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

এবিষয়ে ইউপি সদস্য অলিউর রহমান মুটোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওইদিন রাতে কানাইঘাট থানার এসআই সঞ্জিত’কে কল দেন। এসময় তিনি তাকে বলেন ভিকটিম পক্ষ থানায় যদি কোন লিখিত অভিযোগ না দেয় তাহলে সেখানে কিছু করা যাবেনা?
যদিও ভিকটিমপক্ষ ঘটনার দুইদিন পর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ওইদিন ছুটে যায় প্রতারক রাসেল রবি’র বন্ধু পুলিশ সদস্য মোজাম্মিল। অথচ এর আগে মোজাম্মিল প্রতিবেদকের নিকট মুটোফোনে জানিয়েছিল ঘটনার রাতেই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, পহেলা সেপ্টম্বর কানাইঘাটের ফতেহগঞ্জ গ্রামে বোমা সাদৃশ্য টর্চলাইট বস্তুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু সন্তান সুলতান গুরুতর আহত হয়। বর্তমানেও সে সিলেট ওসমানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনাকে মাস্টারপ্লান করে লাইট বিস্ফোরণ গুজব ছড়িয়ে ভিন্ন পায়তারায় নেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে আমাদের সকলের জানা দরকার বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক পদার্থ হচ্ছে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম, এমন এক ধরনের পদার্থ। এর মধ্যে উচ্চমাত্রার শক্তি সঞ্চিত থাকে, যা বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। হঠাৎ করে খুবই অল্প সময়ের মাঝে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এ বিপুল পরিমাণ শক্তি প্রকাশ পায়। যা আলো, তাপ, শব্দ, এবং চাপ শক্তি আকারে প্রকাশ পায়।

শেয়ার করুন!