প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ১২বছর আত্মগোপনে নারী: আটক



ছবি-সিএনবাংলাদেশ।
জুয়েল চৌধুরী, হবিগঞ্জ :

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রতনপুর থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১২ বছর পর এক নারীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয় সাজানো এ মামলার দীর্ঘ ১২ বছর ধরে একই গ্রামের ৪ আসামি আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছেন। এ ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলীর নির্দেশে এসআই সনৎ দেবসহ একদল পুলিশ ঢাকা কদমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় একটি বিলাসবহুল বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে রাতে তাকে হবিগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। ওই নারীকে এক নজর দেখার জন্য শত শত মানুষ থানা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।

জানা যায়, ওই গ্রামের ফুল মিয়ার কন্যা জহুরা খাতুন শিমু ওরফে ফারজানা বিভিন্ন নাম ধারণকারী ওই নারী ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিজেই আত্মগোপন করেন এবং নিখোঁজের নাটক সাজান। এ ঘটনায় তার মা আমেনা খাতুন বাদি হয়ে একই গ্রামের আব্দুর রশিদ, সুরাব আলী, আব্বাস মিয়া ও হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে একটি অপহরণ করে গুম করার মামলা করেন। এ মামলায় আসামিরা দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকার পর হাইকোর্ট জামিন লাভ করে। কিন্তু এরপর থেকে অদ্যাবদি তাদেরকে আদালতে হাজিরা দিয়ে যেতে হচ্ছে। গোপন সংবাদে পুলিশ জানতে পারে ওই নারী ঢাকার ওই এলাকার এক বাসায় অবস্থান করছে। আসামিরা তাদের আইনজীবির মাধ্যমে গত ১২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ওই নারীকে খুঁজে বের করার জন্য আবেদন করেন। আদালত হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধারে তৎপর হয়। এক পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে তাকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফারজানা জানায়, তার মা ও স্বজনদের পরামর্শে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেই আত্মগোপন করে এ নাটক সাজায়। এ বিষয়ে ওসি মোঃ মাসুক আলী বলেন, আজ মঙ্গলবার ফারজানাকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে। আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে আসামিরা ১২ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিতে দিতে যখন প্রায় নিরাশই হয়ে পড়েন ঠিক সেই মূহুর্তের এই কতিথ অপহৃতাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

শেয়ার করুন!