আলজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোতেফ্লিকা আর নেই



ফাইল ছবি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ আলজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দেলআজিজ বোতেফ্লিকা ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন।

শুক্রবার আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

টানা দুই দশক উত্তর আফ্রিকার দেশটি শাসন করা বোতেফ্লিকা ২০১৯ সালে পদত্যাগ করেন। পঞ্চম মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ওই বছর প্রবল গণআন্দোলনের মুখে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি।

২০১৩ সালে স্ট্রোক করার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে খুবই কম দেখা গেছে।

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বোতেফ্লিকার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল অল্প বয়সেই। মধ্য বিশেই তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান; এ রেকর্ড এখনও অক্ষত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে তিনি ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন; জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সক্রিয়।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি থাকাকালে ১৯৭৪ সালে তিনি ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে জাতিসংঘে বক্তৃতা করার আমন্ত্রণ জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধেও শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

নেলসন ম্যান্ডেলাকে প্রথম সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কৃতিত্বও দেওয়া হয় বোতেফ্লিকাকে।

গত শতকের ৮০-র দশকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন, পরে ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে দেশে ফেরেন তিনি।

রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের পর ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হন বোতেফ্লিকা; যে পদে তিনি ছিলেন পরের দুই দশক।

নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধন করে দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকা যাবে না সংক্রান্ত বিধান তুলে দিয়েছিলেন তিনি।

২০১১ সালে উত্তর আফ্রিকাজুড়ে আরব বসন্ত শুরু হলে বোতেফ্লিকা সরকারি খাতে ভর্তুকি বাড়িয়ে ও দীর্ঘদিন আলজেরিয়ায় জারি থাকা জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে জনসাধারণের মন জয় করে নেন।

স্ট্রোকের ৪ বছর পর ২০১৭ সালে একটি মেট্রো স্টেশন ও একটি সংস্কার করা মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায়। তার ছোট ভাই সাইদ বোতেফ্লিকাই তখন পর্দার আড়াল থেকে দেশ পরিচালনা করছিলেন বলে সবাই ধারণ করত।

অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও বোতেফ্লিকা পঞ্চম মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে আলজেরিয়াজুড়ে দেখা দেয় তীব্র বিক্ষোভ। একের পর এক কর্মসূচি দেশজুড়ে সৃষ্টি করে তুমুল অস্থিরতা।

এর প্রতিক্রিয়ায় বোতেফ্লিকা প্রাথমিকভাবে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর চাপে পদত্যাগে বাধ্য হন।

শেয়ার করুন!