চুনারুঘাটে ভেজাল কীটনাশকে দিশেহারা কৃষক!



ছবি-সিএনবাংলাদেশ।
চুনারুঘাট/হবিগঞ্জ/প্রতিনিধি:

চুনারুঘাট উপজেলার শানখলায় অবৈধ কারখানায় উৎপাদিত ভেজাল কীটনাশক ব্যবহার করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। ন্যায্য মুল্য দিয়ে কিনা কীটনাশক ব্যবহারে পাচ্ছেন না ফল, হচ্ছেন প্রতারিত। ভেজাল কীটনাশকের এমন রমরমা ব্যবসার ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে জেলার প্রায় ৫টি উপজেলায়।

সাইনবোর্ডবিহীন অধিকাংশ কীটনাশকের দোকানে ব্যাপকহারে ভেজাল কীটনাশক বিক্রি হলেও সাধারণ কৃষক বুঝতে পারছেন না, ন্যায্য মূল্য দিয়েও তারা প্রতারিত হচ্ছেন। এতে করে কৃষকদের ঠকিয়ে লাভবান হচ্ছে অসাধু কীটনাশক কোম্পানিগুলো।

চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের উত্তর গোড়ামী গ্রামে তৈরী করা ভূয়া কীটনাশক বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করছেন একই গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে বাবুল মিয়া। শানখলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মন্নান মিয়ার সার্বিক তত্তাবধানে জামাল মিয়াসহ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন কীটনাশকের দোকানে এসব ভেজাল পণ্য বিক্রি করছে চক্রটি। ফুরাডান, অটো ফুরান ও বাসুদেব নামক গুরুত্বপূর্ণ কীটনাশকের মোড়ক ব্যবহার করে ভূয়া কীটনাশক বাজারজাত করছে চক্রটি। নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে স্থানীয় মন্নান মেম্বারসহ কয়েকজন মোড়লকে দিতে হয় মাসোহারা।

বেশি মুনাফার লোভে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী এসব নকল কীটনাশক বিক্রি করায় খুব সহজে পৌঁছে যাচ্ছে কৃষকের জমিতে।

এ নিয়ে একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আসল ও নকল বুঝতে পারছেন না। দোকানের ভেতরে গোপনে মজুদ করে রাখা হয় নকল ও ভেজাল কীটনাশক। ক্রেতারা এলেই সেখান থেকে বের করে সরবরাহ করা হয়। এ সময় ক্রেতাকে নিশ্চিন্তেই ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়ে থাকেন দোকান মালিকরা।

অনুসন্ধানের সূত্র ধরে মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন বাজারের নিপন ট্রেডার্সে গিয়ে পাওয়া যায় ফুরাডান ও অটোফুরান নামের দুটি মাজরাপোকা ধ্বংসকারী ভূয়া কীটনাশক। জিজ্ঞাসাবাদে দোকান মালিক নিপন রায় জানান, এগুলো পদ্মা ও রিয়েলক্রপ কোম্পানির মোড়কজাত হলেও এই কোম্পানির কোন সেলসম্যান সরবরাহ করেননি। শানখলা এলাকার বাবুল মিয়া নামের একব্যক্তি এইগুলা দিয়ে যায়। ভেজাল কীটনাশক জেনেও রাখেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আর কখনো ভেজাল কীটনাশক বিক্রি করবেন না বলে জানান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বাবুল মিয়াকে মুঠোফোনে ফুরাডান কীটনাশক দেওয়ার কথা বললে তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে ডেলিভারি দিবেন বলে জানান।

পার্শ্ববর্তী সাগর ট্রেডার্সের সত্তাধিকারী সুজিত পাল জানান, বাবুল মিয়াকে এমিন্যান্স কোম্পানির ভূয়া কীটনাশকসহ আমরা আটক করেছিলাম। সে ভূয়া কীটনাশক বাজারজাত করে কৃষকদেরকে প্রতারিত করছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপপ্রধান কৃষি ও অর্থনীতিবিধ শেখ বদিউল আলমের স্বাক্ষরিত একটি আদেশে বলা হয়েছে, ‘নকল সার ও কীটনাশক বিনষ্ট এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সব জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন।’ ২০১৪ সালে দেওয়া ওই নির্দেশনা পত্রে প্রতি তিন মাস পরপর কীটনাশক টেস্ট করার কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়ে রয়ে গেছে প্রশ্ন।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। গত বছরে একই অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মালামাল জব্দ করা হয়েছিলো। খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন!