দুর্গাপূজায় বিদ্যুৎতের ভেলকিবাজি বন্ধ চান আয়োজকরা



ছবি-সংগৃহীত।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি/

হবিগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। প্রতিমা নির্মাণে মাটির কাজ শেষের পথে। রং তুলির কাজ কিছুটা বাকী। সবমিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন দেবী দূর্গাকে সকলের কাছে অপরুপ সুন্দর কারুকাজে প্রতিস্থাপন করার জন্য। প্রতিমা তৈরিতে কোন ধরনের ঘাটতি রাখতে চাইছেন না কারিগরগন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ডেকোরেটার্স এর কাজ। ৩/ ৪দিনের মধ্যেই শেষ হবে পূজামন্ডপে সাজ সজ্জা ও আলোক সজ্জার কাজ।

সব ধরনের প্রস্তুতি শেষের পথে তবে হবিগঞ্জে প্রতিদিন যে হারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে তাতে পুজোয় নির্বিগ্নে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন আয়োজকরা। প্রতিদিন ৪/৫ বার চলে বিদ্যুৎতের লোডশেডিং। তাই বিদ্যুৎতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ জেলাবাসী।

হিন্দু পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখা ও দেবী ধ্যানী পুজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজন দাশ রাজু জানান,হবিগঞ্জে প্রতিদিনই কয়েকবার বিদ্যুৎতের ভেলকিবাজি দেখা যায়। যদি এভাবেই চলতে থাকে তাহলে নির্বিগ্নে মানুষ পুজায় আসবে না, একটা আতংক কাজ করবে। পুজায় নির্বিগ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

হবিগঞ্জ জেলা পুজা উযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক শংঙ্খ শুভ্র রায় জানান, হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা প্রকট। গত রবিবার প্রশাসনের কাছে আমরা দাবী জানিয়েছি পুজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য। জেলা প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন পূজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তারপরও আমরা আয়োজকদেরও জানিয়ে রেখেছি রাতের বেলা প্রতি মন্ডপে নির্বিগ্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর জন্য নিজস্ব লাইটের ব্যবস্থা রাখার।সব মিলিয়ে বিদ্যুৎতের বিষয়টি আমাদের মুখ্য হয়ে দাড়িয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলায় প্রতি বছর অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা এবং ১৫ অক্টোবর দূর্গাদেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজোর সমাপ্তী হবে। এবছর জেলায় সার্বজনীনভাবে ৬৬৮টি পূজামন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে ১৮টি দৃর্গাপূজা অনুষ্টিত হবে। জানা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রতি মন্ডপের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।আর হবিগঞ্জ পৌর এলাকার প্রতিটি মন্ডপে এবার ১০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫,০০০ টাকা দেয়া হয় পৌরসভার পক্ষ থেকে।

হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, পূজায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বন্ধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।প্রতিটা মন্ডপ এলাকাকে আমরা মার্কিং করে রেখেছি।আর বিদ্যুৎতের পুরনো যন্ত্রপাতির মেরামতের কাজ চলছে। আশা রাখি দুর্গাপুজায় কোন ধরনের বিভ্রাট হবে না যদি প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগের ঘটনা না ঘটে।

জেলা পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী জানান, দুর্গা উৎসব উদযাপনে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সেরে রেখেছি। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা হয়েছে। উৎসব উদযাপনে আইনশৃংখলা বজায় রাখতে আমরা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সকল বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাবো। মাঠে পুলিশ, বিশেষ টাস্ক ফোর্সসহ বিজিবি, র‍্যাব সর্বদা নজরদারি করবে যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বন্ধসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর থেকে একটি জাঁকজমক উৎসব উপহার দেবে বলে জানান সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বিসহ সকলেই।

শেয়ার করুন!