পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন শিশুসাহিত্যিক রফিকুল হক দাদু 



স্টাফ রির্পোটার/

প্রিয় পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, সংগঠক, সাংবাদিক ও দৈনিক যুগান্তরের ফিচার এডিটর রফিকুল হক দাদু ভাই। রবিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মুগদার বাসায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। রেখে গেছেন স্ত্রী ফাতেমা হক, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী।

রফিকুল হক দাদু ভাইয়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও শোক জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

রবিবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রফিকুল হক দাদুভাইকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সেখানেই তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক যুগান্তরের কার্যালয়ে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

রফিকুল হক দাদু ভাইয়ের জন্ম ১৯৩৭ সালের ৮ জানুয়ারি। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের কামালকাচনায়। সত্তর দশকে গড়া শিশু-কিশোর সংগঠন ‘চাঁদের হাটে’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দাদুভাই। এর আগে তার পরিকল্পনায় এবং তার তত্ত্বাবধানে দৈনিক পূর্বদেশে ‘চাঁদের হাট’ নামে ছোটদের একটি পাতা বের হতো। তখন থেকে তিনি ‘দাদু ভাই’ নামে পরিচিতি পান। পরে ১৯৭৪ সালে ‘চাঁদের হাট’ নামে শিশু সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডন যান। তাঁর দেশে ফিরে আসা উপলক্ষে সেই সময়ের বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘পূর্বদেশ’ একটি বিশেষ সংখ্যা বের করে। ওই পত্রিকার প্রথম পাতায় বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে ‘ঘরে ফিরা আইসো বন্ধু’ শিরোনামে একটি কবিতা ছাপা হয়। রফিকুল হকের লেখা ওই কবিতাটি তুমুল আলোচিত হয়।

নব্বই দশকে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক রূপালীর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বর্ষীয়ান এ সাংবাদিক। এর আগে দৈনিক জনতার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। কাজ করেছেন দৈনিক লাল-সবুজ, আজাদ, বাংলাদেশ অবজারভারে। সত্তর দশকে শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় ‘কিশোর বাংলা’ নামের সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন তিনি। আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ‘নিধুয়া পাথার কান্দে’ নামে একটি নাটক লিখেছিলেন তিনি, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘বর্গি এলো দেশে’সহ তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা সাতটি।

শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রফিকুল হক দাদুভাই ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার। একই বছর পেয়েছেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার। এছ্ড়াা অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চন্দ্রাবতী একাডেমি পুরস্কার, নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেন।

শেয়ার করুন!