কানাইঘাটের লোভাছড়া চা বাগিচা থেকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব!



প্রতীকী ছবি।
বিশেষ প্রতিবেদক/

সিলেটের কানাইঘাটের মঙ্গলপুর লোভাছড়া চা বাগিচা এলাকায় থাকা সরকারী শত শত হেক্টর ভূমি বেদখল হয়ে গেছে। কতিপয় ভূমিখেকো স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী চক্রের কবলে এই সরকারী ভূমি অচিরেই হারিয়ে যাচ্ছে। এ থেকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। জনশ্রুতি রয়েছে উক্ত ভূমি খ্রিষ্টান ধর্মীয় চেয়ারম্যান জেমস লিও ফারগুসন নানকার কবলে রয়েছে। এই ভূমির উপরে আলু চাষ রোপন, রেমা চাষ ও বিভিন্ন ধরণের ফলের বাগাণ লাগিয়ে প্রতিবছর হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এছাড়া উত্তোলন করা হচ্ছে প্রতিবছর কোটি টাকার পাথর। নামেমাত্র চা বাগাণ দেখিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে এসব টাকা কড়ি। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনায়াসে চালিয়ে দিচ্ছে কোটি টাকার হলি খেলার ব্যবসা।

জানা গেছে, শত শত হেক্টর এই সরকারী ভূমিতে রয়েছে উচু-নিচু (টিলা) পাহাড়। সবুজে ঘেরা টিলার ফাঁখফোরে রয়েছে ক্ষেত-কৃষি, খামারের ভূমিও। গড়ে তোলা হয়েছে বাড়ি-ঘর। সকলের অগোচরে সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিজের মালিকানা ভূমি দাবী করে সীমানাও বেধেঁ দেয়া হয়েছে। অথচ ৮টি প্রিন্ট পর্চা অনূসরন করে দেখা যায় এসকল ভূমির মালিক পক্ষে সরকার বাহাদুর।

অভিযোগ রয়েছে কোন ভিজিটর বা বহিরাগতদের এসব যায়গায় প্রবেশ করতে হলে অনূমতি নেওয়া লাগে ওই কথিত প্রভাবশালী ভূমিখেকো চেয়ারম্যান নানকার। এসব টিলা কেটে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করা হচ্ছে। সেখানে হরেক রকম গাছ-গাছালি নিধন সহ পশু-পাখিও উধাও। স্থানীয়রা প্রাণভয়ে তার এসকল কার্যকলাপ দেখেও না দেখার ভাণ করেন। কেউ প্রতিবাদ করতে আসলে তার কপালে জুটে ষড়যন্ত্রমুলক হামলা, মামলাসহ নির্যাতন-নিপীড়ন। এছাড়া স্থানীয় এলাকায় তার রয়েছে বড় একটি সন্ত্রাসী দুর্বৃত্ত গ্রুপ। প্রতিরাতে তার দলবল নিয়ে বসে মদ-জুয়ার আসর। ডোপ টেষ্ট ও ধন সম্পদের হিসেব চাইলে বেরিয়ে আসবে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধনাঢ্য এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনেক সংবাদকর্মীও কলম চালাতে ভয় পান। কারন অত্র এলাকায় তার রয়েছে একটি সৌন্দর্য ঘেরা বাংলো বাড়িও। টিলা বাড়ি হওয়ায় সেখানে যেতে অনেকে ভয় পায়। অভিযোগ রয়েছে সেই পাহাড় বেষ্টনিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি টর্চার সেলও। প্রায় রাতে আমোদ-প্রমোদ করতে কতিপয় অসাধু অফিসার কর্মকর্তারাও আড্ডা জমান সেখানে। কানাইঘাট ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্তাব্যক্তি সহ পুলিশ সদস্যরাও এ থেকে বাদ নেই। ইতোমধ্যে তার চক্রান্তের বলি হয়েছেন মুসলিম পরিবারের ইউপি মেম্বারসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকে।

খুজ নিয়ে জানা যায়, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে রাজি নয়। যে বা যারা প্রতিবাদ করবে তাদের টানতে হবে মামলা-মোকাদ্দমাসহ পিটুনীর ষ্টিম রোলার। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোকজন প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন, স্ত্রী-সন্তান প্রবাসে থাকায় সে আরও বেশি বেপোরোয়া হয়ে উটেছে। যদিও তার বেশ কয়েক একর ভূমি অত্র এলাকায় রয়েছে কিন্তু এর মধ্যে শত শত একর সরকারী ভূমিও কৌশলে বেদখল রেখেছে। এসব ভূমি উদ্ধারে সরকার বা জেলা প্রশাসন আজও কোন পরিকল্পনা করেনি। কারন স্থানীয়দের মতে সীমান্ত এলাকার এই ভূমির উপরে যে কোন ধরণের পর্যটন এলাকা বা কলকারখানা গড়ে তুলতে পারলে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে পারবে। তাদের মতে বর্তমানে অনেক টিলা ১০-১৫ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রয় করে পকেট ভারী করছে ওই চেয়ারম্যান। সেখানে রয়েছে, নদী-নালা, খাল-বিল, পাহাড়, টিলাবাড়ি, লায়েক পতিত, হালট, চা বাগাণ, মৎস খামার, মসজিদ, বাজার ও ছনখোলা। যার খতিয়ান নং-১ ও ১(২)। মৌজা- লোভাছড়া চা বাগিচা, জেএলনং-১৫। এই মৌজা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে শত শত একর সরকারী ভূমির কিয়ামতের আলামত। তাই অবিলম্বে দেশ ও দশের স্বার্থে এই ভূমি উদ্ধারে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণের অনূরোধ জানিয়েছেন সেখানকার স্থানীয়রা।

তারা আরও বলেন, আশপাশের কিছু এলাকায় ব্রিটিশ আমল থেকে বর্তমানে অনেকে খাজনা পরিশোধ করে শান্তভাবে বসবাস করে আসলেও ওই চেয়ারম্যান তাদের ভিটেমাটি ছাড়াতে বিভিন্ন ফন্দি করে। এবং রাষ্ট্রের লোকের নিকঠ ভাল সাজতে আপত্তি জানিয়ে থাকে।

এবিষয়ে জানতে সাবেক ১নং পূর্ব ইউপি ও বর্তমান ২নং-লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জেমস লিও ফারগুসন নানকার সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোন রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন!