আরও এক বছরের জন্য ডিএমপিপ্রধান শফিকুল



ফাইল ছবি।
বিশেষ প্রতিনিধি/

ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) বিভিন্ন পদমর্যাদার প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য রয়েছেন। ডিএমপি পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে বড় ইউনিট হিসেবেও পরিচিত। আইজিপির পর ডিএমপি কমিশনারের পদটি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল।

আগামী ২৯ অক্টোবর ডিএমপির বর্তমান কমিশনার মোহা: শফিকুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে কে হচ্ছেন পুলিশের বৃহৎ এই ইউনিটের পরবর্তী প্রধান। এমন আলোচনায় কমপক্ষে অর্ধডজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম ছিল। তবে আপাতত নতুন কোনো কর্মকর্তা নন, আরও এক বছরের জন্য বর্তমান ডিএমপি কমিশনারকেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে পুলিশে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার পদ একটি। সেই পদে রয়েছেন বর্তমান পুলিশপ্রধান ড. বেনজীর আহমেদ। এছাড়া পুলিশে গ্রেড-১ পদ দুটি। একটি হলো অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন), আরেকটি এসবির প্রধান। এখন র‌্যাবের বর্তমান প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ডিএমপি কমিশনার মোহা: শফিকুল ইসলাম গ্রেড-১ পাচ্ছেন।

২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপির ৩৪তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম। বিসিএস অষ্টম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি পুলিশে যোগ দেন। চাকরি জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন শফিকুল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধান ছিলেন। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম), অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) প্রধান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার; কুমিল্লা, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম ২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক, পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক (প্রশাসন), সিলেট দশম এপিবিএনের অধিনায়ক, সৈয়দপুরে রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার, ডিএমপির এডিসি, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিএমপি, মৌলভীবাজার জেলা ও খাগড়াছড়ির এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

একটি সূত্র জানায়, পরবর্তী কমিশনার হিসেবে অনেকের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বর্তমান কমিশনারকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। শফিকুলের আগে ডিএমপি কমিশনার ছিলেন আসাদুজ্জামান মিয়া। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে ‘জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলে’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, পরবর্তী ডিএমপি কমিশনার হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় ছিল তাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এম খুরশীদ হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি। ১২তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশে যোগ দেন তিনি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নামও পরবর্তী কমিশনার হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। ১৭তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে তিনি যোগ দেন। সাহসী ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য হাবিবুর তিনবার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও দু’বার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পান। বাহিনীতে ‘ইনোভেটিভ’ কিছু করার জন্য আলাদাভাবে তার সুনাম রয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, বেদে ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক অধিকারের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন হাবিবুর।
এছাড়া কমিশনার হওয়ার দৌড়ে ছিলেন বিসিএস-১২ ব্যাচের কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. আতিকুল ইসলাম। তার জন্ম ১৯৬৬ সালে রংপুরের কোতোয়ালিতে। দৃষ্টান্তমূলক কাজের জন্য তিনি ছয়বার আইজি ব্যাজ, দু’বার বিপিএম সার্ভিস, দু’বার পিপিএম (সেবা) (গ্যালান্ট্রি) লাভ করেন। ডিএমপি কমিশনার হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় ছিল পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিনের নামও। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৯০ সালে ১২তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার, ঢাকায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজিসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া পরবর্তী ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আলোচনায় আসেন রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. দিদার আহম্মদ ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান। দু’জন ১৯৯১ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে বাহিনীতে যোগদান করেন।

শেয়ার করুন!