সাহস থাকলে একবার নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখুন: টুকু



সিএনবাংলাদেশ ডেস্ক/

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাবন্দী। তিন বারের সাবেক সফল প্রধামন্ত্রীকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই ষড়যন্ত্রমূলক মামলার ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেয়া হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া আজ পর্যন্ত যত জায়গা থেকে যতটা নির্বাচন করেছেন সবগুলো নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।’

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শুধু উন্নয়ন উন্নয়ন করেন। দেশে উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। সাহস থাকলে একবার নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখুন, নৌকার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আর কোন ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের বিষয়টি রাজপথের আন্দোলনেই ফয়সালা হবে।’

তিনি গতকাল বুধবার বিকেলে শহরতলীর টুকেবাজার এলাকায় বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ প্রদানের দাবিতে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয়, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা-মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মাহবুবুল হক চৌধুরী ও আবুল কাশেম এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক শাফিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাউন্সিলার ফরহাদ চৌধুরী শামীম, মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন খান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সিলেট বিভাগীয় টিম লিডার সাজিদ হাসান বাবু।

জেলা বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল মালেকের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সুচীত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশিক উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, শাহজামাল নুরুল হুদা, ফখরুল ইসলাম ফারুক, মামুনুর রশীদ মামুন, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, আব্দুল আহাদ খান জামাল ও শামীম আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম তারেক কালাম, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপি, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আজাদ মেম্বার, টুলটিকর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম, খাদিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহেদ আহমদ, কান্দিগাও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহমদ হোসেন, মোগলগাও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বশির আহমদ, টুকেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এনাম মেম্বার, জালালাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসলাম উদ্দিন ও হাটখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজির উদ্দিন চেয়ারম্যান।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ তালুকদার ও আনসার উদ্দিন, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, নজিবুর রহমান নজিব, সৈয়দ মঈনুদ্দিন সোহেল প্রমুখ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের মায়ের মতো নেত্রী ভালো না থাকলে আমরা ভালো থাকি না, দেশ ভালো থাকে না। বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ প্রেরণের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় আমাদের নেতা তারেক রহমান বলে দিয়েছেন, আমরাও বলছি, দেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে।’

সভাপতির বক্তব্যে কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘খুব অল্প সময়ে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। অল্প সময়ের প্রস্তুতি সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করার জন্য সিলেট জেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সিলেট হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি। জাতির যে কোন প্রয়োজনে সিলেটের জাতীয়তাবাদী শক্তি যে কোন ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত রয়েছে।’

শেয়ার করুন!