সাদাসিধে সাংবাদিক ছিলেন জেড এম শামসুল



ছবি-সংগৃহীত।

সাদাসিধে সরল মনা মানুষ ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক জেড এম শামসুল ইসলাম। ন্যাপ দিয়েই তার ছাত্র রাজনীতি শুরু। এরপর পত্রিকাজগতে এসে হাজির। সিলেট শহরে ঘুরাফেরা করতেন বাইসাইকেল নিয়ে। বৃষ্টির দিনে থাকতো তার বগলে একটি ছাতা। সবসময় বাইসাইকেলের পেছনে থাকতো কালো রংয়ের একটি ডায়েরি আর কিছু পত্রিকা।

সিলেটের অলি-গলিতে ছিল তার আনাগুনা। চিরচেনা এই শহর ছেড়ে অকালেই চলে যাবেন কারো তা জানা ছিল না। তবে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন নগরীর জিন্দাবাজারের মুক্তিযোদ্ধা গলি ও বন্দরবাজার মাশরাফিয়া রেষ্টুরেন্টে। তার সঙ্গে বেশিরভাগ সময় কাটাতেন আরেক সিনিয়র সাংবাদিক এম এ হান্নান। তার ছিলনা কোন লোভ-লালসা। তবে দুঃখ ছিল খানিকটা। প্রায় সময় বলতেন কাজিরবাজার পত্রিকায় সময় কাটাতে তার ভাল লাগতো না। নিজ স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অল্প টাকার বিনিময়ে তিনি এই পত্রিকায় কাজ করে গেছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করেছেন। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তিনি একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক মর্নিংগ্লোরি’র সিলেট প্রতিনিধি ছিলেন তাও কাজিরবাজার পত্রিকাওয়ালাদের ভয়ে প্রকাশ করতে চাইতেন না। তারা জানলে নাকি তার সম্মানি ভাতা কেটে দিবে ইত্যাদি ইত্যাদি—-।

সেই অফিসে তার একমাত্র প্রতিহিংসার শত্রু ছিল এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্টাফ রির্পোটার। প্রায় সময় তার অফিসিওল কাজ কর্ম নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করতো সেই কথিত স্টাফ। কিন্তু আজ দুঃখ লাগে সেই পত্রিকাওয়ালাদের নিয়ে। কোথায় আজ শামসুল আর কোথায় সেই পথিতযশা স্টাফ।

দীর্ঘদিনের চলার পথে আর কোন দুঃখের কথা তার মুখ থেকে শোনা যায়নি। ছিলনা তার কোন চাহিদা। তবে হ্যা তিনি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে যোগদানের পর থেকে বেশ আরামদায়ক সময় পাড়ি দিয়েছেন। হেড অফিস থেকে শুরু করে সিলেটের চীফ রির্পোটার পর্যন্ত্য তাকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগীতা করে গেছেন। এককথায় তার সততায় মুগ্ধ হয়ে তারা তাকে মাথার মনি হিসেবে দেখতো। এখন সেই মনিটিও চিরতরে নিবিয়ে গেলও। তাই হিংসা হয় ওই জগৎটাকে যারা নির্বোধের মতো সৎ ব্যক্তিদের নিয়ে টানা হেচড়া করে। মৃতু্যর পরেও একজন ব্যক্তির কাজকর্মের পুরো বিষয়াদি বা পরিচয় তুলে ধরতে লজ্জা পায়। সত্যেকার অর্থে ওরা কি মানুষ?

দিলীপ রায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র।

শেয়ার করুন!