নিয়োগ পরিক্ষার প্রশ্নপত্রে চা শ্রমিকদের হেয় প্রতিপন্ন, প্রতিবাদ



মৌলভীবাজার প্রতিনিধি/

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারি/ক্রেডিট চেকিং/সার্টিফিকেট সহকারি ও নাজির পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে চা শ্রমিকদের হেয় প্রতিপন্ন করায় জেলা জোড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। চা শ্রমিকদের হেয় প্রতিপন্ন করায় জেলার চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ সচেতন নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (৪ মার্চ) এ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে চা শ্রমিকদের হেয় করে ছাপানো প্রশ্নের প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে চা শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা। প্রশ্নপত্র তৈরীর দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তির শাস্তি ও প্রশ্নপত্র সংশোধনের দাবি জানান চা শ্রমিক নেতারা।

জনা যায়, বিভাগীয় নির্বাচনী বোর্ড নিয়োগ পরীক্ষা মৌল ১-২২ ছাপানো প্রশ্নে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের অধীন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক/ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী/
সার্টিফিকেট সহকারি ও নাজির পদে শুক্রবার ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটে ১০০ নম্বরের এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষার ছাপানো ৬ নং প্রশ্নে ৫ নম্বরের জন্য ইংরেজীতে অনুবাদ করুন লেখা রয়েছে“ শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। শ্রীমঙ্গলে ৯২টি চা বাগান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের চা খুবই উৎপাদনে ”কুলিরা” হাত দিয়ে পাতা সংগ্রহ করে। প্রক্রিয়াজাত চা পাতা থেকে চা উৎপন্ন করা হয়। এ প্রশ্ন পেয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অংশ গ্রহনকারী চা শ্রমিক সন্তানরা ক্ষুব্ধ হন।

বিষয়টি বিভাগীয় নির্বাচনী বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় গতকাল রাতেই দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের অধীন নিয়োগ পরীক্ষায় “চা শ্রমিক” বোঝাতে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করায় সৃষ্ট অসন্তোষ বিভাগীয় নির্বাচনী বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কাউকে ছোট করা বা আঘাত করার জন্য এরূপ শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। এ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য বিভাগীয় নির্বাচনী বোর্ড দুঃখ প্রকাশ করছে।

বিষয়টি নিয়ে চা ছাত্র পরিষদ নেতৃবৃন্দ, চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করে প্রতিবাদ জানান।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, আমি এখনো প্রশ্নপত্র দেখিনি। আমরা শুধু পরীক্ষার্থীদের অ্যাকোমোডেশনের ব্যবস্থা করেছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিনে নির্বাচন বোর্ড এই পরীক্ষা নিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে চা শ্রমিক নেতা বিজয় হাজরা এঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, চা-বাগান এই স্বাধীন বাংলার শিল্পের চাকাকে সচল রেখেছে আজ দুশো বছরেরো অধিক সময় ধরে। আর এই শিল্পে কাজ করছে লক্ষাধিক শ্রমিক। শ্রমিকরা শ্রমিক হয়, সে যেই শিল্পেই হোক। কিন্তু তাদের কুলি বলার অধিকার কারোর নেই। অন্তত এই সভ্য যুগে যখন মানুষ সভ্যতা শিখছে তখন আজ এরকম ব্যবহার সত্যিই ন্যাক্কারজনক।

শেয়ার করুন!