মালদ্বীপ প্রবাসীদের ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.) এম পি’র জন্মদিন পালন



মোঃ ওমর ফারুক অনিক, মালদ্বীপ থেকে/

ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মালদ্বীপ প্রবাসী শাহ্ জালাল শিকদারের সভাপতিত্বে ( ৪ মে ) ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.) এম পি মহোদয়ের ৭২তম জন্মদিন পালন করেন রাজধানীর গ্রাউন্ড ভিউ রেস্টুরেন্টে।

জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠানে এ আর মামুন, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন মালদ্বীপ শাখার সাধারণ সম্পাদক এর সঞ্চালনায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফোর এল ইন্টারন্যাশনাল এর চেয়ারম্যান জনাব মোঃ হাদিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ট্রেডার্স এর চেয়ারম্যান জনাব মোঃ বাবুল হোসেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মালদ্বীপ আ’লীগের সহ সভাপতি শাহ্ জালাল সিকদার তার বক্তব্যে তাজুল ইসলাম এর জীবনীতে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধে উনার বীরত্বের বর্ননা করতে গিয়ে বলেন ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.) এম পি ( ৫ মে ) ১৯৫১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম (অব.) এর জীবন ঘটনাবহুল। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে সশরীরে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নকালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে জিডি পাইলট হিসেবে যোগদানের যোগ্যতা অর্জন করেন। এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পক্ষ হতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক আসে। সে ডাকে সাড়া দিয়ে ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ৩ নং সেক্টরে জেনারেল শফিউল্লাহর অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনকের হত্যার পর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন। ফলশ্রুতিতে, তিনি গ্রেফতার হন এবং ১৯৭৬ সালে প্রিমেচিউর রিটায়ার্মেন্টে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তিনি ব্যবসায় ও রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৮৪ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপসম্পাদক নির্বাচিত হন, একই সাথে তিনি দলের শিল্প ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদ তৈরির পর তিনি প্রথম সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন হতে পুনরায় নির্বাচিত হোন। ৬ জানুয়ারি ২০০৯ তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। ৫ জানুয়ারি ২০১৫ তিনি পুনরায় নির্বাচিত হোন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাপতির দায়িত্ব হিসেবে নিযুক্ত হন। ৩০ শে ডিসেম্বর ২০১৮ তিনি আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাপতির দায়িত্ব হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে।

জন্মদিন অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মালদ্বীপ আ’লীগের সহ সভাপতি ফাইজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, ফোর এল ইন্টারন্যাশনাল এর পরিচালক মোঃ আব্দুস সবুর, মোঃ আক্তার হোসেন বিশিষ্ট ব্যবসায়িক বকুল হোসেন সাগর, আনোয়ার হোসেন, সজিব সরকার প্রমুখ।

সবশেষে, মিলাদ ও দোয়া মাফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন মোঃ আল আমিন।

শেয়ার করুন!