সাহিত্যের বটবৃক্ষ শাহানাজ পারভিনের অনুভুতি



ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি/

বই প্রেমিদের হাতে একটা বই ততটাই শোভা পায়, যতটা শোভা বর্ধন করে একটা ফুল একটা বাগানের। বইয়ের পাঠক কেবল কবি সাহিত্যিকরা নয়, এটা সবাই মানতে হবে। অনেকে মনে করেন একটা বই প্রকাশ করে কবি সাহিত্যিকরা রাজনৈতিক ব্যাক্তির হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন উৎসব আয়োজন করে অথচ এই বইটার মর্যাদা একজন কবি সাহিত্যিক যতটা মূল্যায়ণ করতো বা উপকার হতো ততটা উপকার বা মূল্যায়ণ রাজনৈতিক ব্যাক্তির কাছে হয়না। আমার প্রশ্ন হলো রাজনীতি যারা করে তারা কি বই ভালোবাসে না? হতে পারে অনেকে বই প্রেমি না কিন্তু বই পড়তে ভালোবাসে না তা কিন্তু নয়। সময়ের চাপে হয়তো বই পড়তে সময় পায়না কিন্তু বই ভালোবাসে যদিও অনেকে বই প্রেমি না।

আজকে যে বিষয়টা স্পষ্ট করতে চাইছি যে , রাষ্ট্রের একজন প্রধান , যার মাথায় রাষ্ট্রের মহাচাপ, তিনি শতচাপেও বইকে কতটা ভালোবাসেন,বর্তমান সাহিত্য নিয়ে তিনি কতটা উদ্বিগ্ন তা তিনার কিছু বক্তব্য লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন প্রিয় বন্ধুরা। তিনি একটা বক্তব্যে বলেছিলেন যে- “আগে যে চিঠি লিখা হতো সেখানেও সাহিত্যের ছোঁয়া ছিলো। বর্তমানে চিঠি যুগের অবসানের কারনে সে সম্ভবনার ভাটা পড়ছে।”
সাহিত্যকে কতটা ভালোবাসলে তিনি একথা বলতে পারেন তা আমরা অনুভব করতে পারি।
আমাদের কলেজে এক অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ যখন এসেছিলেন তখন অনেকে উপহার হিসেবে সাধ্যমত দেয়ার চেষ্টা করেছে। আমি আমার প্রকাশিত তিনটা বই,”ভালোবেসে” “তুমি পূর্ণিমা হবে” “কথা কও” এগুলি যখন তিনাকে দিয়েছিলাম তখন তিনি বলেছিলেন — ” এবার এটাই শ্রেষ্ঠ উপহার, কারণ সবাই সব কিছু দিতে পারবে, এ বই কিন্ত কেউ দিতে পারবেনা” কতটা আত্মতৃপ্তি পেলে একথা তিনি বলতে পারেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য এ বই নিয়ে মহামান্য পর্যন্ত যেতে অনেক কাঠখড় পুড়াতে হয়েছিলো। বই দেয়ার পারমিশন নিতে তো ঝামেলার কোন কমতি ছিলোনা।পারমিশনের পর বই নিয়ে যাওয়ার পথে মহামান্যের সাথে আসা এস এস এফ বাহিনী বইয়ের পাতা পাতা পরিক্ষা করেছে। বললে পাঠক বিশ্বাস করবেন না, নিজের চোখে দেখলে হাসিও থামাতে পারবেন না। এস এস এফ বাহিনী বইয়ের পাতা জিহ্বায় লাগিয়ে বইকেও টেস্ট করেছে চেটেচুটে যে, বইতে কোন বিষ বা কোন মেডিসিন জাতীয় কিছু দেয়া আছে কি না।
যা হোক তিনার কাছে যাবার যে কিচ্চাকের্তন তা সময় পাইলে একদিন আলোচনা করবো। তিনি যে বলেন, তিনি কারাগারে বন্দি, সেটা এক বিন্দুও মিথ্যা বলেন না। আমি বুঝেছি বই দিতে গিয়ে। শত হলেও একজন বই প্রেমির হাতে বই দিতে পেরেছি এটাই বড় পাওয়া।

এবার মহামন্য রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেয়া বইগুলো হলো– আমার ” শ্রেষ্ঠ প্রকাশনী”র বই আমারই সম্পাদিত “স্বপ্ন নোঙর” “স্বপ্নকথা” ও জেড ইউ আহমেদ এর “সুপ্তমুক্তো” এবং ইমরোজ সোহেল এর “আকাশ ভরে সূর্য এঁকে দাও”

শেয়ার করুন!