অল্পে তুষ্টি মুমিনের গুণ



মুহাম্মদ মিজানুর রহমান//

অপরের শান শওকত দেখে কখনোই আফসোস করবেন না। তাতে আপনার মনের শান্তি নষ্ট হবে। এর চেয়ে আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন এ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমার নিয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য আমার নিয়ামত বাড়িয়ে দেব।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত-৭)।

নিজে সৎভাবে জীবনযাপন করুন। হালাল উপার্জন করুন। আয়-উপার্জনে আল্লাহর রহমত ও বরকত কামনা করুন। নিজের কোনো অভাব রয়েছে, আল্লাহর সাহায্য কামনা করুন। আপনার সব অভাব-অভিযোগ আল্লাহর দরবারে পেশ করুন।

আপনি যদি সুন্দর করে চাইতে পারেন, তা এমনভাবে পূর্ণ হয়ে যাবে আপনি তা বুঝতেও পারবেন না। হতে পারে তিনি আপনাকে কোনো গায়েবি খাজানা দ্বারা সাহায্য করবেন। অথবা এমন কোনো উৎস থেকে আপনার অভাব মিটিয়ে দেবেন, যা আপনি চিন্তাও করতে পারেননি। আর যদি আপনি মালিকের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে না পারেন, মহান প্রভুও আপনার ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন না।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘…যদি তোমরা আমার এ নিয়ামতগুলোকে অস্বীকার করো, তাহলে জেনে রাখো, আমার আজাব বড়ই কঠিন।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত-৭)।

মুমিনের জীবনে পরীক্ষার শেষ নেই। কাউকে পরীক্ষা করা হয় সম্পদ দিয়ে। আবার কারও থেকে সম্পদ কেড়ে নিয়ে। কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে। আবার কারও থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে। এ কারণে নিজের প্রত্যাশিত কিছু না পেলে কখনো ভেঙে পড়বেন না। হতাশও হবেন না। সর্বাবস্থায় সবরের অনুশীলন করুন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, ভয়ভীতি, ক্ষুধা-অনাহার, জানমাল ও ফসলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ (সূরা আল বাকারা, আয়াত-১৫৫)। মুমিন যখন বিপদে ধৈর্যহারা না হয়, সুখে থাকার দরুণ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, দুই অবস্থায়ই তার সম্মান বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

দুনিয়ার কল্যাণ লাভ করতে চান, প্রচেষ্টা করুন। সঠিক পথে এগিয়ে যান। অন্যায়ভাবে হঠাৎ বড় হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এমন কোনো পথও বেছে নেবেন না, যে অবস্থার ওপর আল্লাহ আপনাকে দেখতে চান না। এ পৃথিবীতে আপনার বলে তেমন কিছু থাকবে না।

কিন্তু আপনার আমল আপনাকে ছেড়েও যাবে না। ভালো-মন্দ সবই আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আপনি আর দশটি সাধারণ প্রাণীর মতো নন। মৃত্যুর সঙ্গে আপনার বিনাশ হবে না। হিসাবের জন্য আপনাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সামনে দাণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাসস্থল।’ (সূরা নাজিআত, আয়াত-৪০)।

শেয়ার করুন!