অবিলম্বে ঝুমন দাশের মুক্তির দাবি উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর



ফাইল ছবি।
সিএনবাংলাদেশ অনলাইন/

সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাশকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ দাবি জানান।

জানা যায়, সাম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে গত মঙ্গলবার সকালে শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাড়ি থেকে পুলিশ ঝুমন দাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে পুলিশের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রায় আড়াই বছর আগে এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশের করা এক মামলায় কারাগারে যেতে হয় ঝুমনকে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ওই মামলায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও এবার তাকে নতুন মামলায় বন্দি হতে হল।

উদীচী সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর গণদাবির মুখে জামিনে মুক্ত হলেও ঝুমন দাশের সুনামগঞ্জের বাইরে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তার চলাফেরাও নানাভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। তারপরও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৩০ অগাস্ট মঙ্গলবার রাতে ঝুমন দাশকে আবার থানায় ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অথচ, যে ফেসবুক পোস্টের জন্য ঝুমনকে গ্রেপ্তার করা হল, সেখানে সিরাজগঞ্জের একটি মন্দিরের গেইটে মসজিদের দানবাক্স ঝোলানোর নিন্দা জানিয়েছিলেন ঝুমন দাশ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মন্দিরের গেইটে মসজিদের দানবাক্স লাগানোর মত সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কাজ করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যে এ কাজের সমালোচনা করল, তাকেই গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক এবং নিন্দনীয় কাজ বলে মনে করে উদীচী।

অবিলম্বে ঝুমন দাশকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জে মন্দিরের গেইটে মসজিদের দানবাক্স লাগানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে উদীচী নেতাদের বিবৃতিতে।

এছাড়া, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ‘রুদ্ধ’ করে এমন আইন বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শেয়ার করুন!