দেশব্যাপী এমন তাণ্ডব চলছে : রিজভী



ঢাকা/

রক্ত তৃষ্ণায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ কাতর হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘পাড়ায়-মহল্লায় গ্রামেগঞ্জে থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রলীগ মানেই হচ্ছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। এখন মায়েরা তার সন্তানকে ঘুম পাড়াবে ছাত্রলীগের ভয় দেখিয়ে। বলবে বাবা ঘুমিয়ে যা না হয় ছাত্রলীগ আসবে।’

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা কোনো নির্দেশনা দেয়নি সমাবেশে হামলা করার জন্য। তার এই কথাতেই প্রমাণিত হয়, ওবায়দুল কাদেররাই নির্দেশ দিয়েছেন হামলা করার জন্য। না হলে একটা ছাত্রের হাতে চাইনিজ কুড়াল থাকবে কেন? রামদা থাকবে কেন? ছাত্রলীগকে একটা রক্তচোষা দানবে পরিণত করেছেন ওবায়দুল কাদেররা। এদের নাম শুনলেই প্রত্যেকটি জায়গায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘এই যে রক্তপাত তারা (সরকার) করছেন। এই যে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিচ্ছেন, এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা অবৈধ সত্ত্বা নিয়ে যেভাবে টিকে আছেন এই টিকে থাকাটাকে রক্ষা করার জন্যই রাষ্ট্রশক্তিকে অবৈধভাবে দখল করে তারা এই কাজগুলো করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সবচাইতে অমানবিক নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলায় আজকে কয়েকদিন ধরে সরকারি দলের যে তাণ্ডব চলছে এটা নজিরবিহীন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- উগ্রতা, হিংস্রতা এবং বেপরোয়া ভাব। আপনারা দেখেছেন, যারা এই তাণ্ডব চালাচ্ছে তাদের অধিকাংশই হচ্ছে ছাত্রলীগের নেতারা। উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকে আপনারা দেখেছেন চাইনিজ কুড়াল নিয়ে বেড়াতে। তার সঙ্গে ছাত্রত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপি এবং ছাত্রদলের যে সব নেতাকর্মী, যারা মশাল মিছিল করেছে তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাসুদকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ মা-বাবাকে এমন কঠিনভাবে প্রহার করা হয়েছে তারা এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসপাতালে। এ ছাড়া সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করেছে ছাত্রলীগ যুবলীগ। যা দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে এসেছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘দেশব্যাপী এমন তাণ্ডব চলছে। সহিংস রক্তপাতের যে পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে তাতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং চোখ অন্ধ হয়ে গেছে স্প্লিন্টারে। সেই সঙ্গে প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে তিনজনের, ভোলাতে দুইজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন।

সংবাদ সম্মলেন উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল করিম শাহিন, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সাইফুল আলম নীরব, ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ প্রমুখ।

শেয়ার করুন!