সাফজয়ী আঁখির বাড়িতে পুলিশ



ছবি-সংগৃহীত।
শাহজাদপুর/সিরাজগঞ্জ/প্রতিনিধি/

সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। ফুটবলার আঁখিদের নিয়ে দেশব্যাপী যখন আনন্দে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই পুলিশ কারণ দর্শানোর নোটিশটি নিয়ে আঁখির বাড়িতে হাজির হন।

আঁখিকে দেয়া সরকারি জমি নিয়ে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসদরের পাড়কোলা গ্রামে আঁখির বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ দিন সন্ধ্যার কিছু সময় আগে শাহজাদপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশিদ এবং একজন কনস্টেবল সাধারণ পোশাকে এই নোটিশ নিয়ে উপস্থিত হলে আঁখির বাড়ির লোকজনের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় বিষাদে।

এ সময় আঁখির বাবা আক্তার হোসেনকে শাহজাদপুর থানার এএসআই বলেন, দ্বাবারিয়া গ্রামের মৃত মেছের প্রাংয়ের ছেলে মো. মকরম প্রাং বাদী হয়ে সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দ্বাবারিয়া মৌজায় জোরপূর্বক জমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগে একটি মামলা করেন। ফলে খুন-জখম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আদালত উভয়পক্ষকে সেই নালিশি সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এতে ফুটবলার আঁখিসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আদালতের নোটিশটি স্বাক্ষর প্রদানপূর্বক গ্রহণের জন্য আঁখির বাবা আক্তার হোসেনকে অনুরোধ করা হলে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এর ফলে এএসআই ক্ষুব্ধ হয়ে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে উপস্থিত সবার মধ্যে আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। পরে বিষয়টি শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ও শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

ফুটবলার আঁখির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসদরের দ্বাবারিয়া মৌজার এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ওই সম্পত্তির আট শতক জমি আঁখির নামে দলিলমূলে স্বত্ব প্রদান করেন।

গত কয়েকদিন আগে আনুষ্ঠানিকভাবে আঁখির মা-বাবার হাতে ওই জমির দলিল হস্তান্তর করেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আঁখির একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছিল। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি কুচক্রীমহল জাল দলিলের মাধ্যমে আদালতকে ভুল বুঝিয়ে ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে দাবি করেছেন আঁখির বাবা আক্তার হোসেন।

শেয়ার করুন!