মালয়েশিয়ায় অপহৃত বাংলাদেশি সোহেলের মরদেহ উদ্ধার



প্রবাস ডেস্ক/

অবশেষে সন্ধান পাওয়া গেল মালয়েশিয়ায় অপহৃত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী সোহেল মিয়ার। তবে জীবিত নয়, উদ্ধার হয়েছে ৩৯ বছর বয়েসী এই রেমিট্যান্সযোদ্ধার মরদেহ।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সেলাঙ্গর রাজ্যের সেরিকামবাগানের তামিং জায়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১০ নম্বর রোডের একটি কারখানার পেছনের জঙ্গল থেকে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় কাজাং থানা পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং সোহেলের প্রবাসী স্বজনরা।

মালয়েশিয়ার কাজাং ওসিপিডির সহকারী কমিশনার মোহম্মদ জাইদ হাসান বলেন, মরদেহ আংশিকভাবে পচে গেছে এবং ভিকটিমের হাত ও মুখ সেলোফেন টেপ এবং একটি সারং দিয়ে বাঁধা ছিল। তিনি জানান, অপহরণ ঘটনায় আটক ৪ প্রবাসী বাংলাদেশির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোহেলের মামা মিজানের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কাজাং থানা পুলিশ অভিযান শুরু করেছিল।

শুক্রবার সকালে সারডাং হাসপাতালে মরদেহ নিয়ে আসার পর সোহেলের প্রবাসী মামা মিজান ভাগিনা সোহেলের মরদেহ শনাক্ত করেন। মরদেহটি পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তামিলজায়া এলাকায় বাসার কাছ থেকে সোহেল মিয়াকে অপহরণ করা হয়। মেরে ফেলার হুমকিতে ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বরিশালের একটি ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে অপহরণকারীদের দাবি করা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও পাঠায় সোহেলের পরিবার। কিন্তু তারপরও মুক্তি না পাওয়ায় মালয়েশিয়ায় দুটি এবং দেশে ১টি মামলা করে সোহেলের পরিবার। এছাড়াও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে তার পরিবার।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দক্ষিণ ধলাপাড়া গ্রামের মরহুম আহমেদ মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া ১৫ বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী। সেখানে একটি কারখানায় কাজ করতেন সোহেল।

কাজং পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫ অক্টোবর বিকালে বেরানং এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি এবং পরদিন সেমোনিয়া এলাকা থেকে আরও দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মামুন শিকদার ও আলমগীরের নাম প্রকাশ হলেও তদন্তের স্বার্থে বাকি দুইজনের নাম এখনো জানায়নি পুলিশ।

এদিকে মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বরগুনা থেকে মুক্তিপণের টাকাসহ নাসির উদ্দিন (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যা ব। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় সোহেলের ভগিনীপতি বিল্লাল হোসেনের করা অপহরণ মামলার সূত্রে নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার ঘাটাইল থানা পুলিশের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর কন্স্যুলার জিএম রাসেল রানা বলেন, ৪ অপহরণকারী গ্রেফতার এবং তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে সোহেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি মালয়েশিয়া পুলিশ প্রশাসন আমাদের নিশ্চিত করেছে। কী কারণে কিভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানায়নি। অপরণ ঘটনায় আরও কারা জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেফতারে মাঠে রয়েছে মালয়েশিয়া পুলিশ- যোগ করেন কাউন্সেলর।

শুক্রবার সকালে সোহেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর শোনার পর বাকরুদ্ধ মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা বিদেশের মাটিতে স্বদেশিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ নিয়ে হত্যা করার মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার গোলাম সারোয়ার বলেন, সোহেল মিয়া অপহরণ ও হত্যা ঘটনায় জড়িত চক্রের সবাইকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে। প্রবাসে যারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সোহেল রানা অপহরণের পর থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হাইকমিশন মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

শেয়ার করুন!