স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী হত্যা, গ্রেফতার নেই !



মহিনুল ইসলাম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধি :

নীলফামারীর ডিমলায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে দ্বিতীয় স্ত্রী মহছেনা বেগম (৩৫) হত্যার ঘটনায় গত বুধবার রাতে ডিমলা থানায় মামলা দায়েরে করা হয়েছে। যার মামলা নং-১৮/২০২০। নিহতের বড়ভাই গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এতে নিহতের স্বামী মোফাজ্জল হোসেন (মোফা)কে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাত আরো ২/৪ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক হলেও সত্য যে, এ ঘটনায় ৪৮ঘন্টা সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্য্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ ।

নিহতের পরিবারের ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে প্রেমের সূত্রে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম বালিঘাট গ্রামের মৃত শহর উল্লাহর পুত্র মোফাজ্জল হোসেন মোফার সাথে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়ার হোসেনের মোড় গ্রামের মৃত বানার উদ্দিনের কন্যা মহছেনা বেগম (৩৫)এর বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ২টি কন্যা সন্তান রয়েছে। মোফাজ্জলের দুই স্ত্রী হওয়ায় মহছেনা সন্তানদের নিয়ে তার বাবার বসত বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। বিয়ের পর স্বামী মোফাজ্জলও সেই বাড়িতে বসবাস করলেও অধিকাংশ সময় তিনি জয়পুরহাট সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উপার্জনের জন্য অবস্থান করতেন। গত কয়েক মাস পর এক সপ্তাহ আগে স্বামী মোফাজ্জল হোসেন বাড়িতে আসলেও অজানা কারনে বাড়িতে রাত না কাটিয়ে বাজারে অবস্থান করতেন। হঠাৎ তিনি গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনগত ভোররাতে সিদ কেটে ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী মহছেনাকে খুন করে স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমের অভিযোগ তুলে একটি কাগজে লেখা চিরকুট রেখে পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে গত বুধবার দুপুরে ডিমলা থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠান। এসময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল।

তবে লাশের সাথে ঘটনাস্থল থেকে যে চিরকুটটি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ সেখানে স্ত্রীর সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িত ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও আসলে তা স্বামী মোফাজ্জলের হাতে লেখা বা রেখে যাওয়া নাকি হত্যাকারীরা প্রকৃত ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই সেটি লাশের পাশে রেখে গিয়েছিলেন তাও তদন্ত করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ স্ত্রী খুনের ঘটনায় মামলার সত্যতা সিএনবাংলাদেশ-কে নিশ্চিত করে বলেন, আসামীদের বাড়ি দুরে হওয়ায় এখন পর্যন্ত কাওকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে খুনিদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের চেস্টা অব্যাহত রয়েছে। চিরকুটে তিনজনের নাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি অন্য জিনিষ তদন্তের আগে এখনি বলা যাচ্ছেনা । আমরা প্রকৃত খুনিকে ধরতে পারলে বিষয়টি পরিস্কার ভাবে জানা যাবে।

শেয়ার করুন!