অন্য ছেলের সাথে কথা বলায় শ্রাবনীকে হত্যা



ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :

ঠাকুরগাঁওয়ের দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী শ্রাবনী রানী (১৪) হত্যার ঘটনায় সৎমামা সোহাগ বর্মন (২২) কে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের মোহাম্মদ জানান, পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত সাড়ে তিনটায় বরুনগাঁও এলাকা থেকে সোহাগ বর্মনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, সোহাগ বর্মন তার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন, শ্রাবনী রানীর সাথে তার গত একবছর যাবত প্রেম সম্পর্ক। তারা একে অপরকে খুবই ভালোবাসতো। কিছুদিন আগে গোপনে তারা দু’জনে এক মন্দিরে গিয়ে শ্রাবনী রানীকে সিদুর পরিয়ে বিয়ে করে সোহাগ বর্মন। তাদের প্রেমের সর্ম্পক শ্রাবনীর মা জানতে পারলে শ্রাবনী সোহাগ বর্মনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। প্রায় সাত-আট দিন থেকে শ্রাবনী সোহাগের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। শ্রাবনী আরও বিভিন্ন ছেলের সাথে কথা বলে এই বিষয়গুলি সোহাগ বর্মন জানতে পেরে শ্রাবনীর উপর ক্ষিপ্ত হয়। সোহাগ বর্মন শ্রাবনীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে প্রায় সময় তার মোবাইল কল ওয়েটিং পায়। তাই সোহাগ বর্মন চরমভাবে শ্রাবনীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার সন্ধ্যা শ্রাবনীদের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার অনুপস্থিতিতে সোহাগবর্মন শ্রাবনীর সাথে কথা-কাটাকাটি হয় ও শ্রাবনীকে মারপিট করে সোহাগ। এক পর্যায়ে শ্রাবনী তাদের ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রোয়ারে থাকা একটি ধারালো ছুরি বের করে সোহাগকে ভয় দেখায়। তখন সোহাগ তাকে থাপ্পর দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে সেই ছুরি দিয়ে শ্রাবনীর গলায় পোচ মেরে সে পালিয়ে যায়। শ্রাবনী বিছানা থেকে উঠে বারান্দায় এলে সেখানে লুটিয়ে পরে মৃত্যু বরণ করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী সোহাগ বর্মন সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের সিংগিয়া সরকারপাড়া গ্রামের ধীরেন চন্দ্র বর্মনের ছেলে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সদর থানার অফিসার অফিসার ইনচার্জ তানভিরুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মর্তুজা, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনসুর আলীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

নিহত শ্রাবনী রানী (১৪) আকচা ইউনিয়নের আশ্রমপাড়া গ্রামের ভবেশ চন্দ্র বর্মনের মেয়ে। শ্রাবনী রানী শহরের সি এম আইয়ুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।
এ ঘটনায় শ্রাবনীর বাবা ভবেশ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে সোহাগ এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

শ্রাবনীর লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার করুন!