পটিয়ায় মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় ঢাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ



ঢাবি প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে মসজিদ ভাঙচুর, নির্বিচারে মুসলিম হত্যা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধলঘাট ক্যাম্প সংলগ্ন হিন্দুদের মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে প্রতিবাদী ছাত্র জনতা।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তরা চট্টগ্রামের পটিয়ায় মন্দির ভাঙ্চুরের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের খোঁজে বের করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লিটন নন্দী বলেন, আমাদের দেশে যখন মন্দিরে হামলা করা হয় তখন ভারতের আরএসএস বা হিন্দুত্ববাদীদের সুবিধা হয়। এখানে এই মন্দির ভাঙ্গার নাম করে ওখানে আরও দুটি মসজিদে হামলা করতে সুবিধা হয়। ঠিক তেমনিভাবে এখানে যে দাঙ্গা মনস্তাত্ত্বিক মানুষজন রয়েছে তারাও সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কখন সেখানে একটি মসজিদ ভাঙ্গা হবে তখন সেই সুযোগে এই দেশে তারা মন্দিরে হামলা চালাতে পারে। এই কারণে যে মন্দির কিংবা মসজিদে হামলা করে সে কখনো প্রকৃত মুসলিম বা হিন্দু হতে পারে না। সে কখনো সম্প্রীতির মানুষ হতে পারে না। আমরা দ্রুত দোষীদের বিচার দাবি করছি।

এর আগে, চট্টগ্রামের পটিয়ায় মন্দির ভাঙ্চুরের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মিছিল পরবর্তী সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এসময় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল, সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাখাওয়াত ফাহাদ, সাধারণ সম্পাদক রাগিব নায়িম উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়য়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল বলেন, চট্টগ্রামের পটিয়ায় জুম্মা নামাজের পরে একদল মৌলবাদী লোক একটি মন্দিরে ভাঙচুর করেছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় এক ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের দিল্লিতে এখন পর্যন্ত ৫০ অধিক লোক মারা গেছে। আমরা সরকারকে তখনই বলেছিলাম, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় ভারতে থাকে না এর প্রভাব বাংলাদেশে পরে। সেই প্রভাবেই আমরা গত কালকে দেখলাম মন্দিরে হামলা হয়েছে। আমরা এখন আশঙ্কায় আছি, দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। এই হামলার জন্য মৌলবাদী শক্তি যতটুকু দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী বাংলাদেশ সরকার। কারণ তারা কোন ধরনের বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এর আগেও আমরা দেখেছি বাংলাদেশের যতগুলো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে একটি ঘটনারও বিচার হয়নি।

তিনি আরো বলেন, একটি সহিংস ঘটনা আরেকটি সহিংস ঘটনাকে উস্কে দেয়। সরকার এই ঘটনাগুলোর বিচার না করার কারণে বারবার একই ঘটনা ঘটছে। দিল্লিতে যারা মসজিদ ভাঙচুর করে এবং এদেশে যারা মন্দির ভাঙচুর করে তাদের চরিত্র এক। যদিও তাদের পোশাক আলাদা। বাংলাদেশ ও ভারতের অসাম্প্রদায়িক মানুষ এই ঘটনাকে প্রতিহত করবে।

নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিষয়ে বলেন, সারাদেশ প্রতিবাদী হওয়া সত্ত্বেও একজন কুখ্যাত দাঙ্গাবাজ, ফ্যাসিস্ট নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করা নাকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিরোধিতা করে । আমরা বলতে চাই, আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ধারণ করি। কারণ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হওয়ার জন্য। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে আমরা আসতে দিতে পারি না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির বিচার করুন। আপনি যদি মনে করেন বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে অতিথি করে আপনি ক্ষমতায় টিকে থাকবেন, তাহলে আপনি ভুল করবেন। এখনো সময় আছে বাংলাদেশে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে বাতিল করুন। না হলে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ যেভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল সেভাবে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যদি বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক বানাতে হয় আমরা তাই করবো।

সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি মন্দিরে হামলা করা হয়েছে। দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর বাংলাদেশের একটি চক্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাতে ব্যস্ত। আমরা তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, এই নরেন্দ্র মোদী দিল্লিতে মসজিদ ভাঙ্গে, মসজিদ ভাঙতে উস্কানি দেয়, অন্যদিকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় যারা মন্দির ভেঙেছে তারা আর মোদির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তারা উভয়ে নর্দমার কীট।

তিনি আরো বলেন, এই অসাম্প্রদায়িক বাংলায় নরেন্দ্র মোদির কোন জায়গা হবে না। নরেন্দ্র মোদিকে প্রতিহত করার লড়াইয়ে আমরা লড়ছি। একই সাথে বাংলাদেশে যারা এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছেন তাদের প্রতি আমাদের একই হুঁশিয়ারি। এই ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে এই দাঙ্গায় লড়বে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাজ ব্যক্তির জায়গা বাংলাদেশ হবে না। সে হিন্দু হোক বা মুসলমান।

শেয়ার করুন!