গোয়াইনঘাটে হিন্দু সম্পত্তিসহ ৩৭০বিঘা গোচর ভূমি দখল : প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা



নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের গোয়াইনঘাটে হিন্দু সম্পত্তিসহ সরকারের প্রায় সাড়ে ৩শ’ বিঘা গোচর ভূমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও আরো প্রায় ৬ একর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভ’মিও রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটছে গোয়াইনঘাট উপজেলার ভুজি হাওর এলাকায়। কিন্তু রহস্যজনক কারনে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে।

খুজ নিয়ে জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং-ফতেহপুর ইউনিয়নের হেমু মাঝপাড়া ও দত্তপাড়া গ্রামের কতিপয় ভূমিখেকো প্রভাবশালী মহল সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব গোপন করে সেই ভূমি লিজ না নিয়েই ভূমি আত্মসাতে জড়িত রয়েছে। সীমাহীন অনিয়ম দুর্ণীতি লঙ্গন করে প্রকাশ্যে দিবালোকে গোচর ভূমিতে বেশ কয়েকটি স্কেবেটর দিয়ে দিঘি খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গড়ে তোলা হচ্ছে অনেক বড় বড় বাঁধ। এতে করে পরিবেশ হুমকির সম্মূখিন। এ থেকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। যদিও গোচর ভূমি সরকার বাহাদূর হতে লিজ বা কারো দখলে রাখার কোন আইন নেই। এসব কোনটাই মানছে না এই ভূমিখেকো চক্র।

এদিকে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের হেমু নমঃশূদ্রপাড়া গ্রামে প্রায় অর্ধশত পরিবার বসবাস করছে হিন্দু সনাতনধর্মালম্বী ( সংখ্যালঘু ) সম্প্রদায়ের লোক। এই ভুজি হাওর এলাকায় তাদের রয়েছে প্রায় ৬ একর মৌরসী স্বত্ত ভূমি। এ স্বত্তগুলোও প্রভাবশালীদের কবলেও যাচ্ছে । প্রাণ ভয়ে তারা কথা বলতে পারছে না। কারন এই প্রভাবশালীরা কোন কিছুতেই তাদের উপর চালায় ষ্টিম রোলার। যদিও তাদের পক্ষে এনিয়ে ট্রাইব্যুনাল আদালত, সিলেট-এ একটি স্বত্ত মোকাদ্দমা চলমান রয়েছে। যার মামলা নং-৬৬৩/২০১৭ইং। কিন্তু এতেও কোন কাজের কাজ হচ্ছে না। প্রভাবশালীরা একদিকে সরকারি ভূমি আত্মসাত করছে অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভূমিও দখলে নেওয়ার পায়তারায় লিপ্ত।

‘‘অভিযোগ রয়েছে, হেমু নমঃশূদ্রপাড়া গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের গ্রামছাড়া করতে এ প্রভাবশালী মহল বিভিন্নভাবে ফন্দি আটছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তফসিল অফিসের একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র প্রতিবেদক’কে জানায় ভূমিখেকোরা বড় অংকের টাকা ব্যায় করে হিন্দু সম্পত্তি গ্রাস করতে কৌশলে তাদের মৌরসী সম্পত্তি খাস খতিয়ানের খাতায় নাম লেখায়। অথচ তারা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব থেকে পরবর্তী সময়েও এই জায়গার উপরে সরকারি খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখলে আছে। হঠাৎ করে বর্তমান বিগত জরিপে কতিপয় অর্থপিপাষু জরিপ অফিসার প্রভাবশালীদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি খাস খতিয়ানে ফেলে দেয়। তিনি বলেন, এটা একটি নিচক ঘটনা। কোন সভ্য সমাজের লোক এরকম ঘটনা মেনে নিবে না। যদি এর সূষ্ট তদন্ত হয় তাহলে ভূমিখেকো চক্রের কাছ থেকে এ ভূমি আজো রক্ষা করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, এ ভূমি রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের সকল প্রশাসনকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।’’

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেমু নমঃশূদ্র পাড়া গ্রামের বেশ ক’জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক জানিয়েছেন জলকর মহাল সামিল রক্ষায় সরকারকেই উদ্দ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারকে বিশেষ ভুমিকা পালন করতে হবে। তারা জানান আমরা সইতেও পারছি না বলতেও পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা দেশ ত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমাবো। নতুবা অন্যকোন পথ আর আমাদের সামনে খোলা থাকবে না। এসময় দুঃখ প্রকাশ করে তারা বলেন, যে রাষ্ট্রে আমরা সরকারকে যথারীতি টেক্স দিয়ে ভূমি দখলে রয়েছি সেই রাষ্ট্রের কতিপয় অসাধু কর্তা টাকায় বিক্রি হয়ে কিভাবে আবার মৌরসী স্বত্ত খাস খতিয়ানে ফেলে দেয়? তাহলে এই স্বাধীন রাষ্ট্রে বাক স্বাধীনতার কি থাকলো? তারা বিষয়টি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এবিষয়ে জানতে হেমু মাঝপাড়া গ্রামের প্রবীন মুরব্বি আব্দুল কাহির (পঁচা)’র সাথে মুটোয়ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ব্যাপারটি জানতে পেরেছি কিন্তু সেখানে কিছু করার নেই। তারপরেও বিষয়টি দেখব বলে জানিয়েছেন তিনি।

এনিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুটোয়ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এরকম কোন তথ্য জানা নেই। এখন যেহেতু জেনেছি অবশ্যই সেই ব্যাপারে খুজ খবর নিয়ে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চলবে——

শেয়ার করুন!